আগামী বছরেই শুরু হতে পারে বিমানবন্দর-বারাসত মেট্রো পথ নির্মাণ। 

মেট্রো প্রকল্পের কাজের জন্য বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি ইন্ডিয়ান অয়েলের ডিপো সরিয়ে নিতে রাজি হওয়ায় প্রকল্পের কাজ গতি পেতে চলেছে বলে মেট্রো সূত্রের খবর। বিমানবন্দরের মধ্যেই ৭ নম্বর গেটের কাছে বিকল্প জমিতে নতুন রিজার্ভার তৈরি করবেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ। এ জন্য যা খরচ পড়বে, তা অবশ্য মেট্রো কর্তৃপক্ষই দেবেন। 

বিমানবন্দরের মধ্যে ইন্ডিয়ান অয়েলের ১৫ হাজার লিটার জ্বালানির দু’টি ট্যাঙ্ক ছিল। সেই ট্যাঙ্ক আপাতত সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। 

গত বছরের শেষে রেলবোর্ডের তরফে ওই প্রকল্পের ছাড়পত্র মিলেছিল। জমি নিয়ে জটিলতা থাকায় দীর্ঘদিন ধরে ওই প্রকল্পের কাজ আটকে ছিল। পরে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাঁদের জমি ভূগর্ভে মেট্রোর পথ নির্মাণের জন্য ছেড়ে দিতে রাজি হওয়ায় প্রকল্পের জট কাটে। মেট্রো সূত্রের খবর, প্রকল্পের কাজ শুরু করার আগে বিমানবন্দর এলাকায় থাকা বিভিন্ন কাঠামো সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দু’পক্ষই একমত হয়েছেন। 

মেট্রোরেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক ইন্দ্রাণী বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, নিউ ব্যারাকপুর পর্যন্ত ভূগর্ভস্থ মেট্রোপথ তৈরি হবে ‘কাট অ্যান্ড কভার’ পদ্ধতিতে। অর্থাৎ, এই পদ্ধতিতে টিবিএম বা টানেল বোরিং মেশিন ব্যবহারের পরিবর্তে মাটির উপর থেকে গর্ত খুঁড়ে কংক্রিটের স্ল্যাব বসিয়ে সুড়ঙ্গ তৈরি করা হবে।

কলকাতা বিমানবন্দরের অধিকর্তা কৌশিক ভট্টাচার্য সোমবার জানিয়েছেন, যশোর রোডে বাঁকড়ার কাছে যে ৭ নম্বর গেট রয়েছে, তার কাছেই বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের একটি জমি দেখা হয়েছে। সেই জমিতেই নতুন করে জ্বালানি ডিপো হবে। এই ডিপো সরাতে গেলে কত টাকা খরচ হতে পারে, তার একটি হিসেব দেবে ইন্ডিয়ান অয়েল কর্তৃপক্ষ। সেই টাকা মেট্রোরেলের দেওয়ার কথা। কৌশিকবাবু জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই এই কারণে একটি জল পরিশোধন কেন্দ্র এবং বিদ্যুতের সাবস্টেশনকে অন্যত্র সরিয়ে ফেলতে হয়েছে। তার যাবতীয় খরচ মেট্রো কর্তৃপক্ষ দিয়েছে। কৌশিকবাবুর কথায়, ‘‘আমাদের সঙ্গে এ নিয়ে মেট্রো কর্তৃপক্ষের কথা হয়েছে। ডিপো সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’’ 

মেট্রো সূত্রের খবর, বিমানবন্দরে, মাটির তলায় মেট্রোরেলের ডিপো তৈরির কাজ চলছে। গড়িয়া-বিমানবন্দর এবং নোয়াপাড়া-বারাসত দু’টি মেট্রো পথেই চলাচলের জন্য ট্রেন ওই ডিপোতে রাখা হবে। ভূগর্ভস্থ ওই ডিপোর পরে স্টেশন নির্মাণের কাজও শুরু হবে।