স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছ’টা নাগাদ বন্ধ করে দেওয়া হল শিয়ালদহের বিদ্যাপতি সেতুর একাংশ। আগামী রবিবার সন্ধ্যায় ওই উড়ালপুল ফের খুলে দেওয়া হবে। এ দিন স্বাধীনতা দিবসের ছুটি থাকায় যানজট প্রায় হয়নি বললেই চলে। তবে আজ, শুক্রবার কাজের দিন হওয়ায় ওই এলাকায় ভোগান্তির আশঙ্কা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কেএমডিএ-র পরিকল্পনা অনুযায়ী, সেতুর মহাত্মা গাঁধী রোড র‌্যাম্প থেকে বেলেঘাটা র‌্যাম্পের মধ্যবর্তী অংশ বন্ধ থাকবে। ফলে উত্তর থেকে দক্ষিণে যাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। পাশাপাশি, প্রচুর মানুষ ট্রেনে শিয়ালদহ স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করায় তাঁরাও সমস্যায় পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা।

আগেই লালবাজার জানিয়েছিল, কাজ চলাকালীন উড়ালপুলের নীচে প্রাচী সিনেমার দিকে হকারদের বসতে দেওয়া হবে না। এ দিন বিকেলে গিয়ে অবশ্য দেখা গেল, উড়ালপুলের নীচে অধিকাংশ দোকান খোলা। যদিও দোকানিদের একাংশের দাবি, আজ শুক্রবার থেকে রবিবার পর্যন্ত তাঁরা দোকান খুলবেন না। স্বপন সাহা নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘‘শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সমস্যা নেই। তবে উড়ালপুলের ভার বহন পরীক্ষার সময়ে অবশ্যই দোকান বন্ধ রাখব।’’ এ দিন উড়ালপুলের সামনে ছিলেন পুলিশের শীর্ষ কর্তারা। ৬টার পরেই তাঁরা রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করলেও গাড়ির চাপ থাকায় তা বন্ধ করতে আরও আধ ঘণ্টা সময় বেশি নেওয়া হয়। 

সমস্যা মোকাবিলায় কলকাতা ট্র্যাফিক পুলিশ বিকল্প কোন রাস্তা দিয়ে যানবাহন ঘোরানো হবে, সেই সংক্রান্ত নির্দেশিকা দিয়েছে। সেতুর কাজ চলাকালীন নিষেধাজ্ঞা রয়েছে লরি বা মালবাহী গাড়ি প্রবেশের ব্যাপারে। এ ছাড়াও এই চার দিন বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিট, ক্রিক রো, এস এন ব্যানার্জি রোড, এপিসি রোড, লালমোহন ভট্টাচার্য রোড এবং নির্মলচন্দ্র স্ট্রিটে কোনও গাড়ি দাঁড় করানো যাবে না।

লালবাজারের খবর, উত্তর কলকাতা থেকে শিয়ালদহ স্টেশনে আসতে বেলেঘাটা মেন রোড ছাড়াও রাজাবাজার, ক্যানাল ইস্ট রোড ব্যবহার করতে পারবেন যাত্রীরা। মানিকতলা মেন রোড, বিবেকানন্দ রোড, আমহার্স্ট স্ট্রিট এবং বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিট হয়েও শিয়ালদহ আসা যাবে। অন্য দিকে, দক্ষিণ কলকাতা থেকে আসতে হলে মৌলালি ও বেলেঘাটা মেন রোড ধরতে হবে। শহরের উত্তর থেকে দক্ষিণে যেতে হলে মানিকতলা মেন রোড, বিবেকানন্দ রোড, আমহার্স্ট স্ট্রিট, বি বি গাঙ্গুলি স্ট্রিট, ওয়েলিংটন ধরে মৌলালি পৌঁছতে পারবেন মানুষজন। দক্ষিণ থেকে উত্তরে আসতে হলে মৌলালি, এস এন ব্যানার্জি রোড, ধর্মতলা ধরতে হবে। ই এম বাইপাস ধরেও বেলেঘাটা মেন রোড, মৌলালি, ধর্মতলা হয়ে উত্তরে প্রবেশ করা যেতে পারে।

কেএমডিএ-র এক আধিকারিক জানান, সেতুর দু’টি জায়গায় ত্রুটি ধরা পড়েছে। ওই দুই জায়গা কতখানি ভার বহনে সক্ষম, তারও পরীক্ষা হবে। আজ, শুক্রবার ও কাল শনিবার ২০ টন ওজনের লরি তুলে হবে সেই পরীক্ষা। এ ছাড়া ওই রাস্তায় পিচ দেওয়ার ফলে উড়ালপুলের ভারসাম্যের ক্ষতি হয়েছে কি না, তা-ও দেখা হবে।