এজেন্ট নিয়োগ করে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ উঠল নরেন্দ্রপুরে। এই ঘটনায় সাত যুবতী-সহ ১৬ জনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বুধবার রাতে, নরেন্দ্রপুর থানা এলাকার গড়িয়া তেঁতুলবেড়িয়া এলাকা থেকে।

পুলিশ জানায়, ওই এলাকার একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে চালানো হত জালিয়াতি-চক্রটি। মূলত কলেজ পড়ুয়াদের থেকে টাকা নিয়ে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের পরে সরকারি-বেসরকারি চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হত। গড়িয়া এলাকা ছাড়াও ঢাকুরিয়া, সোনারপুর এবং বারুইপুরে ওই সংস্থার শাখা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীরা জানান, বিকাশ ঘোষ নামে এক ব্যক্তি ওই প্রতারণা চক্রের মূল পাণ্ডা। উত্তর ২৪ পরগনার কেষ্টপুর এলাকায় তার অফিস রয়েছে। তবে তদন্তকারীরা মনে করছেন, শুধু ধৃত ১৬ জন নয়, চক্রের শিকড় অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে। 

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের জেরা করে জানা গিয়েছে, নানা ভাবে কলেজ পড়ুয়াদের মোবাইল নম্বর জোগাড় করে তাঁদের ফোন করা হত। ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে চাকরির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হত তাঁদের। টাকা নিয়ে এক মাস প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরে চাকরিপ্রার্থীদেরই বলা হত তাঁরা যেন আরও এমন চাকরিপ্রার্থীদের ওই কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। নতুন প্রার্থীদের থেকে নেওয়া টাকার একটা অংশ কমিশন হিসেবে দেওয়া হত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত পুরনো প্রার্থীদের। এমন ভাবেই মাছের তেলে মাছ ভেজে প্রতারণা চক্রটি চালানো হত বলে দাবি করেছেন পুলিশকর্তারা। বুধবার দুপুরে পর থেকে গড়িয়ার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বেশ কিছু চাকরিপ্রার্থী। পরে নরেন্দ্রপুর থানায় অভিযোগও দায়ের করা হয়। তদন্তকারীদের কথায়, ধৃতেরাও ওই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মাসিক বেতনে চাকরি করতেন। ধৃতদের জেরা করেই প্রতারণা চক্রের মূল পাণ্ডা বিকাশকে গ্রেফতার করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।