সবে ভোর হচ্ছে। রাস্তার সিগন্যালে দাঁড়িয়েছিল অ্যাপ-ক্যাবটি। আচমকাই সিগন্যাল ভেঙে যেতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেই ক্যাবে এসে ধাক্কা মারল একটি বাইক। অ্যাপ-ক্যাবচালক দেখলেন ধাক্কার অভিঘাতে বাইকের চালকের পিছনে বসা আরোহী উড়ে এসে পড়লেন গাড়ির উইন্ডস্ক্রিনের উপরে। রবিবারের ওই ঘটনায় ফের প্রমাণিত হল, দুর্ঘটনা ঠেকাতে পুলিশ যতই সক্রিয় হোক, এক শ্রেণির বাইকচালকের বেপরোয়া ভাব এখনও ঠেকানো যাচ্ছে না। 

পুলিশ জানায়, রবিবার ভোরে লেক গার্ডেন্স ফ্লাইওভারের সিগন্যালের কাছে একটি অ্যাপ-ক্যাবকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মোটরবাইক ধাক্কা মারে। ধাক্কায় মোটরবাইকের চালকের পিছনে বসা আরোহী তাঁর আসন থেকে ছিটকে গাড়ির উইন্ডস্ক্রিনের উপরে গিয়ে পড়েন। মঙ্গল চৌধুরী নামে ওই আরোহীকে বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ভোর পাঁচটা নাগাদ লেক গার্ডেন্স ফ্লাইওভার সিগন্যালে দাঁড়িয়েছিল অ্যাপ-ক্যাবটি। হঠাৎই দেখা যায়, মোটরবাইকটি সিগন্যাল ভেঙে বেপরোয়া ভাবে এসে সজোরে ধাক্কা মারে তাতে। ক্যাবের চালক গোপাল ঝা জানান, তিনি বুঝে ওঠার আগেই দেখেন, মোটরবাইকটি ধাক্কা মারার পরে এক যুবক তাঁর গাড়ির উইন্ডস্ক্রিনের উপরে ছিটকে পড়লেন। আর মোটরবাইকের চালক বুবাই সর্দার ছিটকে পড়লেন রাস্তায়। মোটরবাইক চালক অবশ্য বাইক নিয়ে পালিয়ে যান। পরে তাঁকে পুলিশ ধরে ফেলে। পুলিশ জানিয়েছে, বাইকটির চালক এবং আরোহী কারও মাথায় হেলমেট ছিল না। 

ওই দুর্ঘটনা ঘটে চারু মার্কেট থানা এলাকায়। পুলিশ জানায়, শনিবার রাত দেড়টা পর্যন্ত সেখানে নাকা চেকিং হয়েছে। প্রচুর বেপরোয়া গাড়ির চালককে ধরা হয়। শনিবার রাতেই ৪৪৮ জনকে বিনা হেলমেটে ধরা হয়েছে। ৫৮ জনকে মত্ত অবস্থায় গাড়ি চালানোর জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানোর জন্য ৭২ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শনিবারই মোট ৮২৩ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানায়, গত জুন থেকে এখনও পর্যন্ত নাকা চেকিং করে ট্র্যাফিক আইন না মানা ২০,৯৬১ জন চালকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ।