বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশ মেনে ডেঙ্গির চিকিৎসা হচ্ছে কি না, তা দেখতে এ বার একটি পরিদর্শক দল গড়ছে রাজ্য সরকার। বুধবার কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের সঙ্গে ডেঙ্গি নিয়ে এক বৈঠকের পরে এ কথা জানান রাজ্যের স্বাস্থ্য-অধিকর্তা অজয় চক্রবর্তী। 

পুরসভা সূত্রের খবর, ডেঙ্গি প্রতিরোধ এবং ওই রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসা নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষ প্রোটোকল রয়েছে। তা মেনে চলতে বলা হচ্ছে সব চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানকে। বৈঠকের পরে ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ জানান, অনেক হাসপাতাল ও নার্সিংহোমই তা মেনে চলে না। 

ফলে ডেঙ্গিতে আক্রান্ত রোগীর পরিস্থিতি জটিল হয়ে যায়। এ বার থেকে শহরের সরকারি ও বেসরকারি সমস্ত হাসপাতালে ওই নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা দেখতে নজরদারি চালাবে পরিদর্শক দল। কোনও গাফিলতি পেলে কড়া পদক্ষেপ করার কথা বলা হয়েছে।

পুরসভার স্বাস্থ্য উপদেষ্টা, চিকিৎসক তপনকুমার মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, চার ধরনের ডেঙ্গি ভাইরাস রয়েছে। এক বার যাঁদের ডেঙ্গি হয়েছে, দ্বিতীয় বার ফের তাঁদের ডেঙ্গি হলে সে ক্ষেত্রে ‘টাইপ’ও বদলে যাচ্ছে। সেই আশঙ্কা খতিয়ে দেখতে আক্রান্তের রক্তের আইজিজি পরীক্ষা করছে পুরসভা। সেই রিপোর্ট পজিটিভ হলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে, তা জটিল আকার নিতে পারে। তখনই সতর্ক করা হচ্ছে রোগী এবং তাঁর পরিবারকে। তপনবাবু বলেন, ‘‘পুরসভা যে পদ্ধতিতে কাজ করছে, শহরের অন্যান্য চিকিৎসাকেন্দ্রেও সে ভাবেই কাজ করার আবেদন জানানো হচ্ছে।’’ 

একই সঙ্গে পুরসভার রিপোর্টে আইজিজি পজিটিভ যে সমস্ত রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, তাঁদের চিকিৎসা করার সময়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসাকেন্দ্র যাতে সতর্ক থাকে, সে কথাও বলা হয়েছে। তাতে রোগের জটিলতা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে।

এ দিন অতীনবাবু জানিয়েছেন, ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হলে কলকাতা পুরসভার কোনও ওয়ার্ডের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে দেখানো রোগীরা কোন সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হবেন, তার একটি তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।