আঠেরো দিন কেটে গেলেও জট কাটল না। আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত ও সাসপেন্ড হওয়া ছাত্রেরা গত ২ এপ্রিল থেকে অনশন করছেন নিউ টাউন ক্যাম্পাসে মূল গেটের সামনে। অনশনকারী ছাত্রদের কথা ভেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে ১৮ এপ্রিল জরুরিভিত্তিতে কার্যনিবাহী সমিতির বৈঠক ডাকা হয়েছিল। কর্তৃপক্ষ সেখানে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, অনশনকারী ছাত্রেরা কেবল পরীক্ষায় বসতে পারবেন। তবে আলিয়ায় উচ্চশিক্ষা ও হস্টেলে থাকার অনুমোদন তাঁদের দেওয়া হয়নি। এতেই ক্ষুব্ধ অনশনকারী ছাত্রেরা লাগাতার আন্দোলন চালানোর হুমকি দিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিন কারা চালাবেন, তা নিয়ে গত ২৭ সেপ্টেম্বর নিউ টাউন ক্যাম্পাসে ক্লাস চলাকালীন দু’পক্ষের ছাত্রদের মধ্যে তুমুল মারপিট হয়। ওই ঘটনা প্রসঙ্গে শনিবার আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য মহম্মদ আলি বলেন, ‘‘সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছে, যে সব ছাত্রেরা ক্লাসে ঢুকে কয়েক জন ছাত্রকে বেধড়ক মেরেছিলেন, তাঁরা অতীতেও একই কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন। ক্যাম্পাসে অরাজকতা চালানোর জন্য তাঁরা জেলেও গিয়েছেন। অতীতে ক্ষমা চাওয়ায় তাঁদের শোধরানোর যথেষ্ট সময় দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বারবার অন্যায় করলে মাফ করা সম্ভব নয়।’’ তাঁর কথায়, ‘‘ওঁদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে শর্তসাপেক্ষে পরীক্ষায় বসার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। যদিও আগামী দিনে তাঁরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষায় বসতে পারবেন না। পাশাপাশি ছাত্রাবাসেও থাকতে পারবেন না।’’

শনিবার দুপুরে আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্ক সার্কাস ক্যাম্পাসে সাংবাদিক সম্মেলন করে উপাচার্য গত ১৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যনির্বাহী সমিতির এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। যা শুনে অনশনকারী ছাত্রেরা লাগাতার আন্দোলন চালানোর হুমকি দেন। এক অনশনকারী ছাত্র গিয়াসুদ্দিন মণ্ডল বলেন, ‘‘শাস্তি মকুবের দাবি নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের আন্দোলন চালানো গণতান্ত্রিক অধিকার। এটা খর্ব করা মানে আমাদের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া।’’ অন্য অনশনকারী ছাত্র খিলাফত হোসেনের কথায়, ‘‘ছাত্র আন্দোলনকে নিষিদ্ধ করে কর্তৃপক্ষ অরাজকতা বজায় রাখতে চায়। পরীক্ষায় বসার জন্য যে শর্ত আরোপ করা হচ্ছে তা মানা যায় না।’’