কুকুরছানা হত্যার ঘটনায় দুই অভিযুক্ত— মৌটুসি মণ্ডল এবং সোমা বর্মণের বিরুদ্ধে এন্টালি থানার পুলিশ মামলা দায়ের করেছিল জামিনযোগ্য ধারায়। বুধবার শিয়ালদহ আদালতের বিচারক সেই কারণে তাঁদের জামিন দেন। যদিও বিচারকের নির্দেশ মতো আদালতে বন্ড জমা দিতে না পারায় নার্সিং পড়ুয়াদের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। আজ, বৃহস্পতিবার বন্ড জমা দিতে পারলে জেল থেকে বেরোতে পারেন তাঁরা। আজ টিআই প্যারেড (টেস্ট আইডেন্টিফিকেশন প্যারেড) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছেও বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হাসপাতালের ডেপুটি সুপার দ্বৈপায়ন বিশ্বাস জানান, তাঁদের তদন্তের রিপোর্ট আজ, বৃহস্পতিবারের মধ্যে সুপারকে দেওয়া হবে। তার পরে তা যাবে নার্সেস কাউন্সিল এবং পরে স্বাস্থ্য ভবনে। এই ঘটনায় ‘চিহ্নিত’ আরও তিন ছাত্রীর নাম ওই রিপোর্টে থাকতে পারে বলে হাসপাতাল সূত্রের খবর। তবে অভিযুক্ত ছাত্রীরা এই সময়ের মধ্যে ক্লাস করতে পারবেন কি না, তা স্পষ্ট করে জানানো হয়নি।

এ দিকে অভিযুক্তদের ‘ঢাল’ করে এনআরএস হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেদের গাফিলতি চাপা দিতে চাইছেন, এই অভিযোগে এ দিন বিকেলে নার্সিং হস্টেল চত্বরে বিক্ষোভ দেখান নার্সিং হস্টেলের আবাসিকেরা। রাত পর্যন্ত অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি, ‘‘বারবার লিখিত অভিযোগ করা সত্ত্বেও কুকুরের সমস্যা নিয়ে কর্তৃপক্ষ কেন ব্যবস্থা নেননি, তার জবাব দিন। তিন বছরে ৩৫ জন আমাদের এখানে কুকুরের কামড় খেয়েছে। হাসপাতালকে কুকুরমুক্ত করতে হবে।’’ দ্বৈপায়নবাবু বলেন, ‘‘কুকুর-মুক্ত করা সম্ভব নয়। নির্বীজকরণের কথা পুরসভাকে জানিয়েছি।’’ এ দিকে, যে নিরাপত্তাকর্মী তদন্তে সাহায্য করেছিলেন, তিনি এ দিন জানান, কুকুরগুলো সমস্যা করে ঠিকই, তবে তিনি মারধর করতে বারণ করেছিলেন। ওই দুই ছাত্রী শোনেননি।

এ দিন সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে ধৃত ছাত্রীদের শিয়ালদহ আদালতে তোলা হয়। আদালতের বাইরে ভিড় জমাতে শুরু করেন পশুপ্রেমীরা। পুলিশকে এক সময় আদালতের সামনের রাস্তা ঘিরে দিতে হয়। দুপুর তিনটে নাগাদ অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট শুভদীপ রায়ের এজলাসে শুনানি শুরু হয়। তিনি বলেন, ‘‘এত মামলা পড়ে আছে, জামিনযোগ্য ধারায় হওয়া মামলা শুনব কেন?’’ এর পরে তিনি পশুপ্রেমীদের পক্ষের আইনজীবীদের কাছে জানতে চান, ‘‘ধৃতদের জামিনের বিরোধিতা কেন করা হচ্ছে?’’ ওই আইনজীবীরা জানান, ১৬টি কুকুরছানাকে নৃশংস ভাবে পিটিয়ে মারা হয়েছে। নৃশংসতার মাত্রা এবং যাঁরা তা করেছেন, তাঁদের পরিচয় মাথায় রেখে কড়া হোক আদালত। ধৃতদের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হোক। বিচারক বলেন, ‘‘আপনারা কি পুলিশি তদন্তে খুশি নন?’’ আইনজীবীদের জবাব, ‘‘তদন্ত করুক পুলিশ। কিন্তু যাঁরা মেরেছেন, তাঁরা নার্সিং পড়ুয়া। সমাজের প্রতি তাঁদের অনেক দায়দায়িত্ব। দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ করুক আদালত।’’

এর পরে বিচারক কিছুটা ভাবার সময় চেয়ে নেন। পরে বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ জামিন মঞ্জুর করেন তিনি। অভিযুক্তদের দু’টি আলাদা বন্ডে মোট ৪০০০ টাকা আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

রায় শুনে আদালত চত্বরে সাময়িক বিক্ষোভ দেখান পশুপ্রেমীরা। পশুপ্রেমী প্রান্তিক চট্টোপাধ্যায় তাঁদের বলেন, ‘‘আইন বদল করে কড়া শাস্তির ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ করব।’’ শিয়ালদহ আদালতের সরকারি আইনজীবী অরূপ চক্রবর্তী বলেন, ‘‘জামিন যোগ্য ধারা ছিল সব। সে কারণেই জামিন হয়েছে। তবে আইনের বদল করা সম্ভব কি না, তা দেখা উচিত সরকারের।’’

এ দিকে, মঙ্গলবার এন্টালি থানার সামনে ডিসি (ইএসডি) দেবস্মিতা দাসের গাড়িতে ‘হামলা’ চালানোর ঘটনায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলাও দায়ের করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের দাবি।