হেয়ার স্কুলের মাঠে বসে গিয়েছে হ্যাঙার। মঞ্চ তৈরির কাজও প্রায় শেষ। চলছে চূড়ান্ত প্রস্তুতি। আজ, মঙ্গলবার এই মাঠেই বিদ্যাসাগরের আবক্ষ মূর্তির আবরণ উন্মোচন করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শুধু হেয়ার স্কুলের মাঠই নয়। বিদ্যাসাগরের মূর্তির উদ্বোধন উপলক্ষে গোটা কলেজ স্ট্রিট জুড়েই সাজ সাজ রব। সোমবার বিকেলে ওই রাস্তায় গিয়ে দেখা গেল, দু’দিকের ফুটপাতে বাঁশের ব্যারিকেড তৈরি হয়েছে। রাস্তার ধারে বাতিস্তম্ভে লাগানো হচ্ছে মাইক। কলেজ স্ট্রিট ও হেয়ার স্কুলের মাঠে নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছেন পুলিশের পদস্থ আধিকারিকেরা।

মুখ্যমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করতে এ দিন হেয়ার স্কুলের মাঠে আসেন কলকাতা পুলিশের নিরাপত্তা-অধিকর্তা বিনীত গোয়েল স্বয়ং। মঞ্চে মুখ্যমন্ত্রীর বসার ব্যবস্থা কী হয়েছে, দর্শকেরা যেখানে বসবেন সেখানকার সুরক্ষাই বা কতটা— সব খুঁটিয়ে দেখেন তিনি। জানা গিয়েছে, ১২টির মতো এসি লাগানো হচ্ছে পুরো মাঠ জুড়ে। থাকছে প্রায় ২০টি সাউন্ড বক্স। এ দিন দু’টি পুলিশ কুকুরকে দিয়েও মাঠের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরীক্ষা করেন আধিকারিকেরা।

এক নিরাপত্তা আধিকারিক জানিয়েছেন, বিদ্যাসাগরের আবক্ষ মূর্তিটি থাকবে মঞ্চের বাঁ দিকে। আজ দুপুর ১টা নাগাদ মুখ্যমন্ত্রী সেটির আবরণ উদ্বোধন করবেন। তার পরে মূর্তিটি গাড়ি করে নিয়ে যাওয়া হবে বিদ্যাসাগর কলেজে। পিছনে পদযাত্রা করে সেখানে যাবেন মুখ্যমন্ত্রী। কলেজের যে ঘরে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা হয়েছিল, সেখানেই এই নতুন আবক্ষ মূর্তিটি প্রতিষ্ঠা করা হবে। এ ছাড়াও, বিদ্যাসাগরের একটি পূর্ণাবয়ব মূর্তি বসবে কলেজের গেটে। সেই মূর্তি এ দিনই এনে রাখা হয়েছে কলেজে। শুধু তার মুখ খোলা হয়নি। পূর্ণাবয়ব ওই মূর্তিরও আজ আবরণ উন্মোচন করবেন মমতা।

শিক্ষা দফতরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, হেয়ার স্কুলের মাঠে প্রায় ১২০০ মানুষের বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে রাজ্যের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কলেজের অধ্যক্ষ, বিদ্যাসাগরের বংশের লোকজন-সহ বহু বিশিষ্ট মানুষকে। থাকছে প্রায় আড়াইশো স্কুলপড়ুয়া। হেয়ার স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুনীল দাস বলেন, ‘‘আমাদের স্কুলের প্রায় ১০০ জন ছাত্র অনুষ্ঠানে থাকবে। তাদেরই মধ্যে কয়েক জন স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করবে।’’ স্কুলের দশম শ্রেণির ছাত্র পার্থ শী বলে, ‘‘গরমের ছুটির পরে সোমবার স্কুল খুলেছে। এ দিনই হেডস্যার আমাকে ডেকে বললেন মঙ্গলবারের অনুষ্ঠানের জন্য স্বেচ্ছাসেবক হতে হবে। এত বড় অনুষ্ঠানে স্বেচ্ছাসেবক হতে পেরে খুবই ভাল লাগছে।’’

আজকের অনুষ্ঠানের জন্য কলেজ স্ট্রিট থেকে বিদ্যাসাগর কলেজ পর্যন্ত রাস্তা পরিষ্কারের কাজ চলছে। সাজানো হচ্ছে কলেজ স্কোয়ারও। সেখানে ঢুকেই বিদ্যাসাগরের যে মূর্তি, সেটি ঝাড়পোঁছ করা হচ্ছে। এ দিন গিয়ে দেখা গেল, তাতে পড়েছে চুনের প্রলেপ।

মূর্তি উদ্বোধনের আগের দিন বিদ্যাসাগর কলেজেও ব্যস্ততা তুঙ্গে। কলেজের যে ঘরে ভাঙচুর চলেছিল, সেটি রং করে ফের ঝকঝকে করে দেওয়া হয়েছে। নতুন করে তৈরি করা হয়েছে কলেজে প্রবেশের দরজা। যেখানে বিদ্যাসাগরের আবক্ষ মূর্তি বসানো হবে, তৈরি সেই কাঠের বেদীও। কলেজের এক আধিকারিক বললেন, ‘‘খুব দ্রুত কলেজে আগের জায়গায় ফিরে এল বিদ্যাসাগরের নতুন আবক্ষ মূর্তি। উপরি পাওনা হিসেবে কলেজ প্রাঙ্গণে পেলাম তাঁর পূর্ণাবয়ব মূর্তিও। আমরা খুবই খুশি।’’

এ দিকে, মূর্তি উন্মোচনের জন্য বিদ্যাসাগর কলেজের পুরনো ভবনে পরীক্ষার সূচি বদল করেছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। আজ, মঙ্গলবার ও কাল, বুধবার সেখানে দ্বিতীয় সিমেস্টারের বায়োকেমিস্ট্রি অনার্সের প্র্যাক্টিক্যাল পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। সেই পরীক্ষা পিছিয়ে আগামী ১৩ ও ১৪ জুন করা হয়েছে।