বিয়ে হয়েছিল প্রায় এক বছর আগে। এক মাসের একটি পুত্রসন্তানও আছে। তারপরেও সরকারি রূপশ্রী প্রকল্পের টাকা পেতে বিয়ের গল্প ফেঁদেছিল পরিবারটি। শেষমেশ প্রশাসনের কাছে তা ফাঁস হয়ে গিয়েছে। 

শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে জীবনতলা থানার নারায়ণপুরের। রহিম মোল্লা তাঁর মেয়ে আমিনার  (দু’টি নামই পরিবর্তিত)বিয়ে দেবেন বলে সম্প্রতি রূপশ্রী প্রকল্পের সরকারি টাকা পেতে ব্লক প্রশাসনের কাছে আবেদন করেন। এ দিন প্রশাসনের কর্তারা আবেদনপত্র খতিয়ে দেখতে গিয়ে জানতে পারেন, আগেই বিয়ে হয়ে গিয়েছে আমিনার।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রের খবর, বছরখানেক আগে আমিনার বিয়ে হয়। তার একটি এক মাসের পুত্রসন্তান আছে। তা সত্ত্বেও রূপশ্রী প্রকল্পের ২৫ হাজার টাকা পাওয়ার জন্য মেয়ের বিয়ের নাটক ফেঁদে বসে পরিবারটি। ক্যানিং ২ ব্লক অফিসে সেই মতো আবেদন করা হয়। 

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

বিডিও দেবব্রত পালের নেতৃত্বে প্রশাসনের কর্তারা মেয়েটির বাড়িতে যান। পরিবার জানায়, ক্যানিংয়ের এক যুবকের সঙ্গে তাঁরা ছেলের বিয়ের ঠিক করেছেন। কিন্তু কথাবার্তায় নানা অসঙ্গতি টের পান প্রশাসনের কর্তারা। এক সময়ে সত্যি কথা স্বীকারও করে নেয় পরিবার। 

আমিনা নিজেই প্রশাসনের কর্তাদের বলেন, ‘‘আমার বিয়ে হয়েছে ঠিকই, কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকজন নিয়ে যায় না। তাই পরিবার আবার বিয়ের ঠিক করেছে।’’ কিন্তু বিডিও যখন তাঁর সন্তানের কথা জানতে চান, তখন নিজের ছেলেকে ‘ভাইপো’ বলে পরিচয় দেন আমিনা। দাবি করেন, তাঁর কোনও সন্তান নেই। কিন্তু বাড়ির এক নাবালিকার সঙ্গে কথা বলে কর্তারা নিশ্চিত হন, সন্তানটি আমিনারই। 

বিডিও বলেন, ‘‘প্রকল্পের টাকা প্রথম বিয়ের ক্ষেত্রেই পাওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে ওই পরিবার মেয়ের বিয়ের পরেও টাকা পাওয়ার জন্য মিথ্যা আবেদন করেছেন। খতিয়ে দেখতে গিয়ে বিষয়টি ধরা পড়ে।’’ পরিবারটির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।