ডাইনিং টেবিল-চেয়ারের জায়গায় পাতা রয়েছে বিছানা! কনেযাত্রীরা প্রথমটায় তাজ্জব হয়ে যান। 

পাত্রপক্ষের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে রক্তদান শিবিরের। নবদম্পতির জন্য ছিল না কোনও উপহারের ব্যবস্থা। তবে খাওয়া-দাওয়া অবশ্যই হয়েছে।

নববধূর বরণ-অনুষ্ঠানকে স্মরণীয় করে রাখতে এমনই উদ্যোগ দেখা গেল কাকদ্বীপের রবীন্দ্র পঞ্চায়েতে কুমারপুর গ্রামে। বুধবার সন্ধ্যায় কনেযাত্রীদের নিয়ে রক্তদান শিবিরের আয়োজন হয়েছিল। দু’টি জীবনের নববন্ধনকে মনে করিয়ে দিয়ে যে সানাই বাজছিল তার সুরে মিশে গেল বৃহত্তর সামাজিক বন্ধনের অঙ্গীকারও।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি নির্বাচন এবং গরমের কারণে ডায়মন্ড হারবার ও কাকদ্বীপ মহকুমা এলাকায় অনেক দিন ধরেই রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা যাচ্ছিল না। অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে রোগীদের রক্ত দিতে সঙ্কট তৈরি হয়েছে। ডায়মন্ড হারবার জেলা হাসপাতালে রয়েছে সারা জেলার থ্যালাসেমিয়া কেয়ার ইউনিট। ওই ইউনিট থেকে সারা মাসে রক্ত নিতে আসেন প্রায় চোদ্দোশো রোগী। তাঁদের রক্তের জোগান দিতেও হিমসিম দশা।

এই পরিস্থিতিতে কাকদ্বীপের সপ্তমুখী নদী ও জঙ্গলঘেঁসা কুমারপুর গ্রামের নব বিবাহিত যুবক সুকদেব সামন্ত ঠিকই করে নিয়েছিলেন, কনেযাত্রীদের নিয়ে রক্তদান শিবিরের আয়োজন করবেন। সন্ধে সাড়ে ৬টায় পাত্রীপক্ষের লোকজন বৌভাতের অনুষ্ঠানে পাত্রের বাড়িতে হাজির হয়ে শিবিরে যোগ দেন। দুই মহিলা-সহ ১৪ জন রক্ত দিয়েছেন। রক্ত সংগ্রহ করেন কাকদ্বীপ হাসপাতালের ব্লাডব্যাঙ্কের কর্মীরা।

রক্তদাতা চম্পা হালদার, পুষ্প হালদার, যুধিষ্ঠির মণ্ডলেরা বলেন, ‘‘দারুণ অভিজ্ঞতা! আমরা কানাঘুষো শুনেছিলাম, বৌভাতের অনুষ্ঠানে রক্তদান শিবির আয়োজিত হবে। তবে বিশ্বাস হচ্ছিল না। ভাল লাগল এমন এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পেরে।’’

নববিবাহিত সুকদেব যখন রক্ত দিচ্ছিলেন, পাশে দাঁড়িয়ে স্ত্রী সুচরিতা। নববধূর কথায়, ‘‘এখন সর্বত্র রক্তের আকাল চলছে। এই অবস্থায় সকলেরই তো এগিয়ে আসা উচিত।’’

অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন সুকদেবের কাকা অনন্ত সামন্ত। তিনি জানান, জলাজঙ্গলে ঘেরা এই এলাকার মানুষের মধ্যে রক্ত দেওয়ার প্রতি আগ্রহ বাড়াতেই আসলে শিবিরের আয়োজন। খাওয়া-দাওয়া মিটলে রক্তদাতাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয় চারাগাছ।