এইচডিইউ (হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিট) পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে অক্টোবর মাসে রাজ্যে প্রথম স্থান অর্জন করল বনগাঁ মহকুমা হাসপাতাল। 

এই সাফল্যে খুশি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে এইচডিইউ শয্যার সংখ্যা ৬টি।  হাসপাতাল সুপার শঙ্করপ্রসাদ মাহাতো বলেন, ‘‘এটা আমাদের দলগত সাফল্য। চিকিৎসক, নার্স, জনপ্রৈতিনিধি, পুলিশ-প্রশাসন  সকলে মিলে এক সঙ্গে কাজ করতে পেরেছি বলেই সাফল্য এসেছে। আগামী দিনেও আমরা যা ধরে রাখার চেষ্টা করব।’’

স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে,  রাজ্যের মোট ২৫টি হাসপাতালে এইচডিইউ ব্যবস্থা চালু রয়েছে। ওই সব হাসপাতালে এইচডিইউ-তে রোগীরা কেমন পরিষেবা পাচ্ছেন, সে দিকে নজর রাখেন রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা। সেই নিরিখে প্রতি মাসে স্থান নির্ধারিত হয়। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের এসপিএসআরসি (স্পেটেজিক প্ল্যানিং অ্যান্ড সেক্টর রিফর্ম সেল) এই কাজ করে। অক্টোবর মাসের সাফল্যের নিরিখে দ্বিতীয় রানাঘাট মহকুমা হাসপাতাল। তৃতীয় কাকদ্বীপ মহকুমা হাসপাতাল। সব শেষে জায়গা পেয়েছে বাঘাযতীন স্টেট জেনারেল  হাসপাতাল।  

কী ধরনের বিষয়ের উপরে ভিত্তি করে স্থান নির্ধারন করা হয়?

হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে,  এইচডিইউ-তে ভর্তি রোগীদের মধ্যে কত জনকে ‘রেফার’ করা হচ্ছে, কত দ্রুত রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু হচ্ছে, কত জন রোগী সুস্থ হচ্ছেন—  এ সব দেখা হয়।  

মাস পাঁচেক আগেও অবশ্য পরিস্থিতিটা ছিল সম্পূর্ণ বিপরীত। সে কারণেই জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত সময়ে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালের স্থান ছিল ১৩ নম্বরে।  এই সময়ে প্রথম স্থানে ছিল রানাঘাট মহকুমা হাসপাতাল।

বনগাঁ মহকুমা হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মে মাসে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালের অবস্থান ছিল রাজ্যের মধ্যে ১৭ নম্বরে।

মে মাসে হাসপাতাল সুপার এইচডিইউ-এর  দেখভালের দায়িত্ব তুলে দেন চিকিৎসক গোপাল পোদ্দারকে। তিনি এবং এইচডিইউ ইনচার্জ চিকিৎসক শান্তনু সরকার   উদ্যোগী হন। চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয় গড়ে তোলেন। বার বার চিকিৎসকদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়। কলকাতার হাসপাতালে রোগী রেফার না করিয়ে সুস্থ করার কাজ যথেষ্ট ঝুঁকি নিয়েই চিকিৎসকেরা এখন করছেন বলে হাসপাতাল সূত্রের খবর। বিশেষ ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের দল গঠন করেও রোগীর চিকিৎসা করা হচ্ছে। হাসপাতালের এইচডিইউ-তে এখন চিকিৎসা করেন ৪ জন চিকিৎসক।   

গোপাল বলেন, ‘‘সকলকের সহযোগিতা পেয়েছি বলেই সাফল্য মিলেছে। চিকিৎসকেরাও নিজেদের কাজের সময়ের বাইরে গিয়ে এখানে রোগী  দেখেন। এটা ধরে রাখা আমাদের কাছে একটা চ্যালেঞ্জ।’’ শান্তনুর কথায়, ‘‘বিষাক্ত সাপেকাটা ৭ বছরের একটি শিশুকে এইচডিইউ-তে ভর্তি করে ভেন্টিলেশন দু’দিন রেখে সুস্থ করা হয়েছে। যা অতীতে সম্ভব ছিল না।’’   

হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা বনগাঁ উত্তর কেন্দ্রের বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস বলেন, ‘‘আমাদের পক্ষ থেকেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করা হয়, যাতে রোগীরা সুষ্ঠু পরিষেবা পান।’’