এ বার কাটমানি ফেরতের দাবিতে তৃণমূল নেতাকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখালেন এলাকার মানুষ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার সকালে উত্তেজনা ছড়ায় ক্যানিংয়ের পূর্ব শিবনগর গ্রামে। টাকা ফেরত না পেলে থানা, ব্লক ও জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ জানাবেন বলে দাবি করেছেন বিক্ষোভকারীরা।  

এ দিন সকালে প্রায় শতাধিক গ্রামবাসী স্থানীয় তৃণমূল নেতা তাপস সর্দার ও ফণীভূষণ মণ্ডলকে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে এলাকার দুই তৃণমূল নেতা বহু মানুষের কাছ থেকে দশ, পনেরো, কুড়ি হাজার টাকা করে কাটমানি নিয়েছেন। কাউকে ঘর দিয়েছেন তো কাউকে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা বাদল মণ্ডল, সাধন সর্দাররা বলেন, “সরকারি ঘর পাইয়ে দেওয়ার জন্য তাপস ও ফণীভূষণ আমাদের থেকে টাকা নিয়েছেন। দশ হাজার টাকা করে দিয়েছি আমরা। আমাদের মতো আরও বহু মানুষ টাকা দিয়েছেন ঘর পাওয়ার আশায়।’’

সম্প্রতি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কাটমানি ফেরানোর কথা বলায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই কাটমানি নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। পূর্ব শিবনগর গ্রামের বাসিন্দারা এ দিন সকালে একত্রিত হয়ে টাকা ফেরতের দাবিতে এলাকায় বিক্ষোভ দেখান, মিছিল করেন। এ দিন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে গেলে গ্রামবাসীদের সঙ্গে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের বচসা বাধে। ঘটনায় এলাকায় সাময়িক উত্তেজনা ছড়ায়। গ্রামবাসীরা কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তুললেও তা কার্যত অস্বীকার করেন দুই অভিযুক্তই। 

তবে টাকা লেনদেনের কথা স্বীকার করেন তাপস। তিনি বলেন, “ঘর পাইয়ে দেওয়ার জন্য গ্রামবাসীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে ঠিকই, তবে সেই টাকা আমি নিইনি। টাকা অঞ্চল সভাপতি খলিল মোল্লা নিয়েছেন। আমি শুধু মধ্যস্থতা করেছি।’’ 

যদিও এ বিষয়ে খলিলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। তবে ক্যানিং ১ ব্লকের তৃণমূলের সভাপতি শৈবাল লাহিড়ী বলেন, “যদি কেউ সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কাটমানি নিয়ে থাকেন তার দায়িত্ব দল নেবে না।’’