স্কুল চলাকালীন মাথায় পাখা ভেঙে জখম হল তৃতীয় শ্রেণির দুই ছাত্র। বুধবার সকালে বাগুইআটির একটি স্কুলের এই ঘটনার লিখিত রিপোর্ট তলব করেছেন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা স্কুল পরিদর্শক (প্রাইমারি)।

চিত্তরঞ্জন কলোনি হিন্দু বিদ্যাপীঠের আহত এক ছাত্রের নাম অয়ন সর্দার। তার বাড়ি অর্জুনপুরের রথতলায়। অন্য ছাত্রের আঘাত ততটা গুরুতর নয়। স্কুল সূত্রের খবর, পাখার ব্লেডের আঘাতে অয়নের মাথার ডান দিক কেটে রক্ত বেরোতে থাকে। স্কুলের সাদা পোশাক মুহূর্তে রক্তে ভিজে যায়। রক্তাক্ত অয়নকে তড়িঘড়ি বিধাননগর পুরসভার হাসপাতালে নিয়ে যান শিক্ষিকারা। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে মা কল্যাণী সর্দারকে স্কুল থেকে ফোন করা হয়। কল্যাণীদেবী জানান, হাসপাতালে গিয়ে দেখেন, ছেলের মাথায় ব্যান্ডেজ বাঁধা। বেরিয়ে আসার সময়ে তিন বার বমি করে অয়ন। পরে তার সিটি স্ক্যান করা হয়েছে।

স্কুল সূত্রের খবর, এ দিন বাংলার শিক্ষিকা দেবিকা মণ্ডল ক্লাস করে বেরোনোর সময়ে ঘটনাটি ঘটে। অর্জুনের কথায়, ‘‘তখন বন্ধুর সঙ্গে গল্প
করছিলাম। ব্লেডটা মাথায় লাগল। তার পরে ডান কাঁধে চাকতিটা লেগে মাটিতে পড়ে গেল।’’ ছেলের চিকিৎসায় শিক্ষিকাদের ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্ট অয়নের বাবা রিকশাচালক শঙ্কর সর্দার। তবে তিনি বলেন, ‘‘স্কুলের পাখাগুলোর অবস্থা দেখা হবে না! এ যাত্রায় অল্পের উপর দিয়ে গিয়েছে। কিন্তু বড় অঘটন হতে পারত।’’

প্রাইমারি বিভাগের প্রধান শিক্ষিকা স্বপ্না রায়চৌধুরী বলেন, ‘‘এটা নিছক দুর্ঘটনা। পাখা খারাপ হলে তা মেরামতি করা হয়। রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত সমস্যা নেই। জখম ছাত্রের চিকিৎসা যাতে ভাল ভাবে হয় সে দিকে শিক্ষিকারা যত্নশীল ছিলেন। স্কুল পরিদর্শক বিষয়টি জানতে চাইলে, তাঁকেও একই কথা বলেছি।’’ যদিও অভিভাবকদের অভিযোগ, পাখা নোংরা হয়ে থাকে। রক্ষণাবেক্ষণ হলে পাখা খুলে পড়ে?

উত্তর ২৪ পরগনা জেলা স্কুল পরিদর্শক (প্রাইমারি) সজল চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘ওই স্কুল রাজারহাট পশ্চিম সার্কেলের অন্তর্গত। সেখানকার এসআই-কে তদন্ত করে লিখিত রিপোর্ট জমা দিতে বলেছি।’’