তোলার টাকা না দেওয়ায় এক তরুণী ও তাঁর স্বামীকে মারধর করে মালপত্র লুটের অভিযোগ উঠল এক সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে। শুক্রবার রাতে পুলিশ আয়েব আলি নামে ওই সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, আয়েবের বাড়ি বাদুড়িয়ার উত্তর শেরপুর গ্রামে। শনিবার তাকে বসিরহাটের এসিজেএম আদালতে তোলা হলে বিচারক চোদ্দো দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। মারধর, হেনস্থা, জিনিসপত্র কেড়ে নেওয়া-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। আয়েবের সঙ্গী সান্টু আলি এবং কাসেম আলি- সহ কয়েক জনের খোঁজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

ওই দম্পতির আইনজীবী সন্তু দাস বলেন, ‘‘জিনিসপত্র নিয়ে বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন ওই দম্পতি। সে সময়ে তাঁদের রাস্তা আটকায় আয়েব ও তার সঙ্গীরা। তোলা বাবদ ৮০ হাজার টাকা দাবি করে। তা না দেওয়ায় মহিলা ও তাঁর স্বামীকে মারধর করে। গয়না-সহ সঙ্গে থাকা জিনিসপত্র সব কেড়ে নেয় তারা।’’ পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন ওই যুবক। তখনই ঘটনাটি ঘটে। মহিলার স্বামী বলেন, ‘‘বিয়ের পরে বাড়ির কারও সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না। সে জন্য বৃহস্পতিবার স্ত্রীকে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে শ্বশুরবাড়ি চলে যাচ্ছিলাম। মাঝ রাস্তায় পথ আটকে টাকা দাবি করে আয়েব।’’ তরুণীর অভিযোগ, তাঁর শ্লীলতাহানিও করেছে আয়েব ও তার সঙ্গীরা। পুলিশ জানায়, ঘটনার পরে ওই রাতেই দম্পতি থানায় এসে আয়েব ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ পরের দিন আয়েবকে গ্রেফতার করে। অভিযুক্ত এক জনের বাড়ি থেকে ওই দম্পতির জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়।

তরুণী ও তাঁর স্বামীর অভিযোগ, আয়েব গ্রামে মাঝে মধ্যেই তাণ্ডব চালাত। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মিথ্যা ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত বলে দাবি করে আয়েব বলে, ‘‘তোলাবাজির অভিযোগ মিথ্যা। আমরা ওই দম্পতির পরিবারের কাছে ৮০ হাজার টাকা পেতাম। তাঁরা গ্রাম ছাড়ছেন বলে জানতে পেরে সেই টাকা চাইতে যাই। আমাদের মিথ্যা অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে।’’