স্কুলে নিয়মিত আসেন না শিক্ষক-শিক্ষিকারা। পড়তে এসেও ফিরে যেতে হয় ছাত্রছাত্রীদের। বারবার অভিযোগ জানিয়েও সুরাহা হয়নি। এই সমস্যাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দুপুরে অভিভাবকদের বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠল দেগঙ্গার দক্ষিণ কলসুর নিম্ন বুনিয়াদি বিদ্যালয়। পরিস্থিতি সামলাতে পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ গেলে তাঁকে ঘিরেও চলে বিক্ষোভ। শিক্ষক-শিক্ষিকারা কেন আসছেন না, তা জানতে চেয়ে স্কুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিস পাঠিয়েছেন বিদ্যালয় পরিদর্শক।

কলসুরের সর্দারপাড়ার ওই স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা ৭৭। শিক্ষক-শিক্ষিকা আছেন তিন জন। স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা অসুস্থতার জন্য ১৫ দিনের ছুটিতে আছেন। সেই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন সৌভিক বন্দ্যোপাধ্যায় নামে এক শিক্ষক। এ দিন অবশ্য স্কুলে আসেননি তিনি। শাহামিনা খাতুন নামে এক শিক্ষিকা এলে প্রথমে তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকেরা। খবর পেয়ে আসেন দেগঙ্গা পঞ্চায়েত সমিতির শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ অসিত মণ্ডল। তাঁকে ঘিরেও বিক্ষোভ চলে।

কোহিনুর বিবি নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘‘বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে প্রায়ই শুনতে হয়, স্যরেরা আসেননি। কোনও কোনও দিন কেউই আসেন না।’’ আর এক অভিভাবক আব্দুল মালেক বলেন, ‘‘যাঁদের ভরসায় বাচ্চাদের পড়াশোনা করতে পাঠাই, তাঁরাই যদি দিনের পর দিন না আসেন, ছেলেমেয়েদের ভবিষ্যৎ কী হবে?’’ হাসান সর্দার নামে এক অভিভাবকের কথায়, ‘‘অনেকে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠানোই বন্ধ করে দিয়েছেন।’’

শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ বলেন, ‘‘বারবার অভিযোগ পেয়ে এ দিন এসে সত্যিটা জানলাম। এটা অন্যায়। ব্যবস্থা নিতে বিদ্যালয় পরিদর্শককে জানিয়েছি।’’ বিদ্যালয় পরিদর্শক মহম্মদ হাবিবুল্লা বলেন, ‘‘বহু বার অভিযোগ পেয়ে নিজে স্কুলে এসে সতর্ক করেছি। তার পরেও এমন ঘটায় দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষককে শো-কজ করা হয়েছে।’’ জবাবে অসঙ্গতি থাকলে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।