স্কুলবাসে বাড়ি ফেরার পথে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হল ব্যারাকপুরের একটি বেসরকারি স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের। অভিযোগ, বাসের খালাসি একাধিক ছাত্রীর শ্লীলতাহানি করে। বাধা দিলে ছাত্র এবং এক শিক্ষককে হুমকি দেয় অমর রজক নামের ওই যুবক। শেষ পর্যন্ত মাঝ রাস্তায় কোনওক্রমে বাস থেকে নেমে পড়ে ছাত্রীরা। বুধবার বিকেলের ওই ঘটনার পর থেকে আতঙ্ক কাটছে না ওই ছাত্রীদের। 

ওই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার স্কুলে বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকেরা। শেষ পর্যন্ত রাতে অভিযুক্ত খালাসি এবং ওই বাসের চালক মহম্মদ ইকবালের বিরুদ্ধে ব্যারাকপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন স্কুলের উপাধ্যক্ষ জি স্যামুয়েল ডেভিস। পুলিশ জানিয়েছে, রাত পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার হয়নি।

স্কুলের ছাত্রীরা জানিয়েছে, অমর এ দিন মত্ত অবস্থায় ছিল। স্কুল থেকে বাস ছাড়ার পরেই সে অভব্যতা শুরু করে। নানা ভাবে ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করতে থাকে। প্রতিবাদ করলেও সে ছাত্রীদের গায়ে হাত দিয়ে কটূক্তি করে। তার এমন আচরণ দেখে প্রতিবাদ করে বাসে থাকা স্কুলের ছাত্রেরা। ওই বাসেই ছিলেন স্কুলের এক শিক্ষকও। তিনিও অমরকে বারবার সাবধান করেন। অমর ওই শিক্ষক এব‌ং ছাত্রদের হুমকি দেয়। শেষ পর্যন্ত কামারহাটির রথতলায় ছাত্রীরা বাস থেকে নামার চেষ্টা করে। কিন্তু তখনও বাসের দরজায় দাঁড়িয়ে ছাত্রীদের বাধা দেয় অমর। ছাত্রদের সাহায্যে কোনও ক্রমে বাস থেকে নেমে বাড়িতে এবং স্কুলে ফোন করে ছাত্রীরা। বাড়ির লোকেরা তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যান। 

বৃহস্পতিবার স্কুল শুরু হওয়ার পর থেকেই বিক্ষোভ শুরু করেন অভিভাবকেরা। শেষ পর্যন্ত বিকেলে বৈঠকে বসে স্কুল। তার আগেই অবশ্য বাসের চালকের সঙ্গে কথা বলেছিলেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। রাতে স্কুল কর্তৃপক্ষ থানায় অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নেন। উপাধ্যক্ষ জানিয়েছেন, বাসের চালক জানতেন যে, অমর মত্ত অবস্থায় রয়েছে। তার পরেও তিনি স্কুল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাননি। এমনকি তাঁকে বাসে উঠতেও বাধা দেননি।

পুলিশ জানিয়েছে, অমরের বাড়ি ব্যারাকপুর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার খানকুঠিতে। চালক ইকবাল ব্যারাকপুর সদরবাজারের বাসিন্দা। তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে।