রেশন কার্ড সংশোধনের লম্বা লাইন চোখে পড়ছে ভাঙড় ১, ২, ক্যানিং ১, ২, বাসন্তী, গোসাবা-সহ দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিভিন্ন প্রান্তে।

ভাঙড়ের কাঁঠালিয়া গ্রামের বাসিন্দা আকচির মোল্লা রেশন কার্ডে নামের বানান সংশোধনের জন্য রাত ৩টে থেকে ব্লক অফিসে লাইন দিয়েছিলেন। বললেন, ‘‘দু’দিন লাইন দিয়েও ফর্ম জমা দিতে পারিনি। তা ছাড়া, গ্রামের সবাই বলছে, এখনই যদি রেশন কার্ড বা অন্যান্য কাগজপত্রে নাম-ঠিকানা সংশোধন না করি, তা হলে অসমের মতো এখান থেকেও আমাদের তাড়িয়ে দেওয়া হবে।’’

মরিচা গ্রামের সুরাইয়া বিবির কথায়, ‘‘ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য কম্পিউটার সেন্টারে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার পরিবারের ভোটার তালিকা সংশোধনের জন্য ৬০০ টাকা নিয়েছে।’’ব্লক প্রশাসন সূত্রের খবর, অনলাইনে কাজ করাতে গিয়ে বিপাকে পড়ছেন বহু মানুষ। সুযোগ নিচ্ছে বিভিন্ন সাইবার ক্যাফে। ৪০০-৫০০ টাকা আদায় করছেন কোনও কোনও সাইবার ক্যাফের মালিক। রেশন কার্ডের ভুল সংশোধন বা ডিজিটাল রেশন কার্ডের জন্য ফর্ম পূরণ করতে অতি সক্রিয় হয়ে উঠেছে এক শ্রেণির দালাল। এর পাশাপাশি বিভিন্ন ফটোকপি দোকানের মালিকেরা রেশন কার্ড সংশোধনের ফর্ম বিক্রি করছেন ১৫-২০ টাকায়। যা বিনা খরচে পাওয়ার কথা। 

বহু অসাধু ব্যবসায়ী ও দালালেরাও এনআরসি নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। বিভিন্ন সংগঠনও লিফলেট ছড়িয়ে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ। 

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা যুব তৃণমূল সভাপতি তথা ক্যানিং পূর্বের বিধায়ক সওকত মোল্লা বলেন, ‘‘এনআরসি নিয়ে সাধারণ মানুষ যেন অযথা আতঙ্কিত হয়ে না পড়েন, সে জন্য আমরা জেলার বিভিন্ন ব্লক এলাকায় মিছিল করছি। মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করছি, যে কোনও মূল্যে আমরা এনআরসি এ রাজ্যে চালু আটকাব।’’ 

বারুইপুরের মহকুমাশাসক দেবারতি সরকার বলেন, ‘‘ডিজিটাল রেশন কার্ড তৈরি ও রেশন কার্ড সংশোধন রাজ্য সরকারের নিজস্ব কর্মসূচি। ইলেক্টরস ভেরিফিকেশন প্রোগ্রাম (ইভিপি) জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কর্মসূচি। এই দুই কর্মসূচি এক সঙ্গে শুরু হওয়ায় অনেকে বিভ্রান্ত হচ্ছেন। আমরা বারবার মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করছি, ওই দুই কর্মসূচির সঙ্গে এনআরসির কোনও সম্পর্ক নেই।’’ 

এ জন্য ব্লক প্রশাসন ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন মহকুমাশাসক। মানুষ যাতে বিভ্রান্ত না হন, সে জন্য বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে প্রচার করার কথা বলা হয়েছে। ব্লক প্রশাসনকেও আলাদা ভাবে প্রচার করতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে মহকুমাশাসক।