রাত হয়েছিল। তবে নিশুত নয়। রাস্তায় তখনও যাতায়াত করছিলেন লোকজন।

আচমকা পাড়া কেঁপে উঠল গুলির শব্দে। এক বার নয়, পরপর দু’বার। সেই আওয়াজে ততক্ষণে ছোটাছুটি পড়ে গিয়েছে পাড়ায়। তাতে অবশ্য ভ্রূক্ষেপ নেই দুই মোটরবাইক আরোহীর। একটি বাড়ির দোতলার জানলা লক্ষ্য করে ফের একটি গুলি চালিয়ে বাইকে চেপে চলে যায় তারা। যাওয়ার সময় পাড়ার মোড়ে দাঁড়িয়ে শূন্যে আরও এক রাউন্ড গুলি চালায়।

মঙ্গলবার রাত পৌনে ১১টা নাগাদ ওই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে আগরপাড়ার ঊষুমপুর সাধুরবাগানে। পুলিশ জানিয়েছে, স্থানীয় ব্যবসায়ী প্রবীর দে-র বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালায় দুষ্কৃতীরা। গুলিতে প্রবীরবাবুর বাড়ির একটি জানলা ভেঙে গিয়েছে। তবে কারা এই ঘটনায় জড়িত, সে বিষয়ে বুধবার রাত পর্যন্ত অন্ধকারে তদন্তকারীরা। প্রবীরবাবুও কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি। বছরখানেক আগে তাঁর এক ভাই খুন হয়েছিলেন। সেই খুনে নাম জড়িয়েছিল এলাকারই এক দুষ্কৃতীর। বাসিন্দাদের ধারণা, বাড়ির লোকেদের ভয় দেখাতে ওই দুষ্কৃতীর সঙ্গীরাই গুলি চালিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা অমিত সরকার জানান, মঙ্গলবার রাতে সাড়ে ১০টা নাগাদ তিনি বাড়ির বাইরে দাঁড়িয়ে এক বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছিলেন। রাস্তায় সে সময়ে লোক চলাচল ছিল। তেমন অন্ধকারও ছিল না এলাকা। অমিতবাবু জানিয়েছেন, সে সময়ে একটি মোটরবাইকে চেপে দুই যুবক আসে। তাদের এক জন বেশ লম্বা। সে বসেছিল বাইকের পিছনে। আচমকা একটি আগ্নেয়াস্ত্র বার করে প্রবীরবাবুর বাড়ির দোতলা লক্ষ্য করে পরপর দু’টি গুলি চালায় সে।

এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দু’টি গুলি চালানোর পরে দুই দুষ্কৃতী মিনিট দু’য়েক অপেক্ষা করে। গোটা সময় তারা প্রবীরবাবুর বাড়ির দিকে তাকিয়ে ছিল। কেউ উপর থেকে দেখছেন কি না, সেটা দেখাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল বলে মনে করছেন বাসিন্দারা। পরে ফের ওই জানলা লক্ষ্য করে আরও একটি গুলি চালায় ওই দু’জন। এর পরে কিছু ক্ষণ অপেক্ষা করে চলে যায়। কিছুটা দূরে সাধুর মোড়ে গিয়ে বাইক থামিয়ে আবার আর এক রাউন্ড গুলি চালিয়ে পালায়।

খবর পেয়ে আসে ঘোলা থানার পুলিশ। এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তারা। কথা বলা হয় প্রবীরবাবুর সঙ্গেও। তবে প্রবীরবাবু পুলিশকে জানিয়েছেন, তিনি কাউকে দেখেননি। প্রাথমিক ভাবে তদন্তকারীদের অনুমান, প্রবীরবাবুর ভাইকে খুনে যারা অভিযুক্ত, তারাই ভয় দেখাতে এমন কাণ্ড ঘটিয়ে থাকতে পারে।

এক বাসিন্দা অমিতাভ বিশ্বাস বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন এই পাড়ায় আছি। আগে কখনও এমন ঘটেনি। দুষ্কৃতীরা যে ভাবে পাড়ায় ঢুকে গুলি চালিয়ে অবাধে চলে গেল, তাতে আর নিজেদের নিরাপদ ভাবতে পারছি না।’’ ব্যারাকপুর কমিশনারেটের ডিসি (জোন-২) আনন্দ রায় বলেন, ‘‘তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে কেউ গ্রেফতার হয়নি।’’