আগে সাধারণত শীতেই পর্যটকেরা আসতেন। বর্ষাকালটা এড়িয়ে যেতেন। কিন্তু এখন সারা বছরই পর্যটকেরা আসছেন এখানে। বর্ষাতেও পিছু হটছেন না। এমন ঘটছে অনেকটাই রসনার টানে। কেননা বর্ষার মরসুমে ভ্রমণ-পর্বে পাতে পড়ছে ইলিশের নানা পদ। যা ভ্রমণের সুখ প্রতি পদে বাড়িয়ে দিচ্ছে। এই হল সুন্দরবনের পর্যটনের সাম্প্রতিকতম বদলের ছবি।

বর্ষাকালে ঝড়-বৃষ্টির কারণে নদীতে জলোচ্ছ্বাস বাড়ে। জলস্ফীতির ভয়ে বর্ষার মরসুমে নদীবেষ্টিত সুন্দরবন একসময়ে এড়িয়েই চলতেন পর্যটকরা। এখন ছবিটা বদলাচ্ছে। বাঙালি একদিকে যেমন ভ্রমণপিপাসু, তেমন ভোজনরসিকও। দু’য়ের মেলবন্ধন হলে তো কথাই নেই। সুন্দবনের ট্যুর অপারেটররা কয়েক বছর ধরে এই দু’য়ের মেলবন্ধন ঘটানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বর্ষায় নদীবক্ষে লঞ্চে করে ঘুরতে-ঘুরতে সুন্দরী সুন্দরবনের প্রাকৃতিক শোভা উপভোগের পাশাপাশি ইলিশ মাছের বিভিন্ন পদ দিয়ে ভূরিভোজের ব্যবস্থা করছেন তাঁরা। এতেই কেল্লা ফতে! তাঁদের দাবি, এ বার বর্ষাতেও এই টানে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক ভিড় জমিয়েছেন সুন্দরবনে।

বাজারে ইলিশের টান থাকলেও পর্যটকদের জন্য ইলিশভাজা, ইলিশ পাতুরি, ইলিশভাপা, ইলিশ বিরিয়ানি-সহ নানা পদের ব্যবস্থায় কোনও কমতি নেই। সুন্দরবনে ইলিশ উৎসব চালু করার অন্যতম উদ্যোগী এক ট্যুর অপারেটর বলেন, “আগে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি— এই পাঁচ মাসই পর্যটকরা সুন্দরবন ভ্রমণে আসতেন। কিন্তু আমরা কয়েকবছর ধরে বর্ষায় ইলিশ উৎসবের আয়োজন করছি। এটা টানছে পর্যটকদের। এ বারও এই টানে বর্ষার ভরা মরসুমে রেকর্ড পরিমাণ পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমণে এসেছেন।” ট্যুর অপারেটরদের দাবি, চলতি বর্ষায় প্রতি শনি ও রবিবার পর্যটকদের ঢল নামছে সুন্দরবনে। ইলিশের টানে আর বর্ষায় তরতাজা সুন্দরবনকে দেখার জন্যই এই ভিড়। উত্তর কলকাতার হাতিবাগান থেকে সুন্দরবনে বেড়াতে আসা রাহুল, সুনীল, রূপা, স্নিগ্ধারা বলেন, “আগেও সুন্দরবনে এসেছি। তবে শীতে। কিন্তু বর্ষায় সুন্দরবন যেন আরও সুন্দর। সঙ্গে ইলিশের বিভিন্ন পদের মজা পুরো এ বারের ভ্রমণকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।”

বর্ষায় সুন্দরবনে পর্যটক-সংখ্যা বাড়ায় ট্যুর অপারেটরদের মুখে তো হাসি ফুটেছেই। এর ফলে সরকারি রাজস্ব আদায়ও বেশ খানিকটা বেড়েছে। এ বিষয়ে সুন্দরবন ব্যাঘ্র প্রকল্পের ক্ষেত্র অধিকর্তা নীলাঞ্জন মল্লিক বলেন, “গত কয়েক বছরের তুলনায় এ বার বর্ষার মরসুমে সুন্দরবনে পর্যটকের সংখ্যা যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে রাজস্ব আদায়ও বেড়েছে। ’’