ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর জখম হয়েছিলেন পঞ্চান্ন বছরের এক ব্যক্তি। মুখ, মাথা ফেটে রক্ত ঝরছিল। প্রায় অচৈতন্য অবস্থায়  গোঙাচ্ছিলেন তিনি। কয়েক জন যুবক গিয়ে তাঁকে  উদ্ধার করে দ্রুত পৌঁছে দেন হাসপাতালে।

সোমবার রাত পৌনে ৯টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে বনগাঁ-শিয়ালদহ শাখার ঠাকুরনগর স্টেশনের কাছে। বনগাঁ জিআরপি জানিয়েছে, আহত ওই ব্যক্তির নাম রবিন দাস। বাড়ি বনগাঁ শহরের দত্তপাড়ায়।  

জিআরপি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রবিন ট্রেন ধরে বাড়ি ফিরছিলেন। গেটের কাছে দাঁড়িয়েছিলেন। ঘটনাস্থলের কাছেই একটি দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলেন পলাশ দাস, তন্ময় বিশ্বাস, রঞ্জিত হালদার, পবিত্র বিশ্বাস। তাঁরা জানতে পেরে ছুটে যান। জখম ব্যক্তিকে ভ্যানে করে চাঁদপাড়া ব্লক গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যান সকলে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসকেরা তাঁকে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করেন। যুবকেরা তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্স করে বনগাঁ হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে তাঁর বাড়ির লোকজন খবর পেয়ে হাসপাতালে আসেন। মঙ্গলবার সকালে ওই ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাঁকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। যুবকদের কথায়, ‘‘সকলে মুখ ফিরিয়ে চলে যাচ্ছিলেন। মনে হল, এ ভাবে মানুষটি ফেলে রাখব। তাই কোনও কিছুর পরোয়া করিনি। ওঁকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে আসি। খবর দিই রেল পুলিশকে। জখমের বাড়িতেও খবর দিই।’’ প্রত্যক্ষদর্শী দোকানি দিলীপ দেওয়ান বলেন, ‘‘ওই যুবকেরা আমার দোকানের কাছে আড্ডা মারেন। কাজকর্ম নেই দেখে অনেকে বাঁকা মন্তব্য করেন ওঁদের নিয়ে। আজ ওই ছেলেগুলোর জন্যই এক ব্যক্তি জীবন ফিরে পেলেন।’’ জিআরপি জানিয়েছে, জখম কাউকে উদ্ধার করলে পুলিশি ঝামেলায় পড়তে হয় না, ওই যুবকেরা তা আবারও প্রমাণ করলেন। মানুষ এগিয়ে এলে তাঁদের কাজ করাটা আরও সহজ হয় বলেই মনে করছেন জিআরপি কর্তারা। বনগাঁ-শিয়ালদহ শাখায় প্রায়ই ট্রেনের ধাক্কায় মানুষ জখম হচ্ছেন। বেশির ভাগ সময় পুলিশ না পৌঁছনো পর্যন্ত জখমেরা পড়ে থাকেন। মানুষ চোখের সামনে দেখেও জখমদের উদ্ধার করেন না বলে অভিযোগ। জিআরপি কর্তাদের আবেদন, স্থানীয় মানুষ যেন এমন খবর পেলে জখমদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে আনেন।