আট দিন কেটে গেলেও ঘটনার কিনারা হয়নি। ব্যাঙ্কে ডাকাতির তদন্তভার সিআইডি-র হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে জানাল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। পুলিশ অবশ্য তদন্তে সিআইডি-কে সাহায্য করবে। এক পুলিশকর্তা জানান, ডাকাতদের খোঁজে ভিন রাজ্যের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে তল্লাশি চলছে।

৪ জুলাই দুপুরে আসানসোলের সেনর‌্যালে রোডে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের শাখায় হানা দিয়ে কর্মী ও গ্রাহকদের মারধর করে জনা দশেকের দুষ্কৃতী-দল লুটপাট চালায় বলে অভিযোগ। তদন্তকারীরা জানান, সম্প্রতি রানিগঞ্জ ও ঝাড়খণ্ড সীমানার মিহিজামে পরপর ঘটে যাওয়া ডাকাতির সঙ্গে এই ঘটনার বেশ কিছু মিল রয়েছে। রানিগঞ্জে দুপুর দেড়টা ও মিহিজামে সকাল ১০টায় ব্যাঙ্কে হামলা হয়। দু’টি ঘটনার সময়ে ব্যাঙ্কে বেশি গ্রাহক প্রায় ছিলেন না। একই কায়দায় দুপুর ২টো নাগাদ সেনর‌্যালেতে লুটপাট হয়।

ডাকাতির পরে দুষ্কৃতীরা কোন পথে পালায়, সে নিয়ে গোড়ায় ধন্দে পড়েছিলেন তদন্তকারীরা। তা কাটিয়ে ওঠা গিয়েছে বলে জানায় পুলিশ। এডিসিপি (‌সেন্ট্রাল) সায়ক দাস জানান, সেনর‌্যালে মোড়ের আগে ডান দিকে শিদলা গ্রামের রাস্তা ধরে সে দিন সন্দেহভাজনদের স্থানীয় কিছু বাসিন্দা পালাতে দেখেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। এডিসিপি বলেন, ‘‘এই দলটি আগেও ব্যাঙ্ক ডাকাতি করেছে বলে আমাদের প্রাথমিক ধারণা। তদন্তভার সিআইডি-কে দেওয়া হচ্ছে। আমরাও সিআইডি-কে সাহায্য করব।’’ তিনি জানান, দেশের অন্য প্রান্তে ব্যাঙ্ক ডাকাতির গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সিআইডির কাছে থাকে। তাই তদন্তে সিআইডি বেশি কার্যকর হবে।

কমিশনারেট সুত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার কলকাতা থেকে সিআইডি-র ডিআরবিটি শাখার অফিসারেরা আসানসোলে এসে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করেছেন। দুষ্কৃতীদের ছবির স্কেচ নিয়ে ঝাড়খণ্ড পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তবে স্কেচ কতটা ঠিক হয়েছে তা নিয়ে পুলিশের একাংশই সংশয়ে। কারণ, ব্যাঙ্কে প্রত্যক্ষদর্শী কর্মী, আধিকারিক ও সে দিন সেখানে কতর্ব্যরত পুলিশকর্মীদের বিবরণে ফারাক রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রের খবর।

দুষ্কৃতীরা এখনও ধরা না পড়ায় আতঙ্ক বাড়ছে, দাবি শহরবাসীর একাংশের। এডিসিপি জানান, এই ধরনের ঘটনা রুখতে পুলিশের তরফে শহরের ব্যাঙ্ক আধিকারিকদের নিয়ে লম্বা বৈঠক করা হয়েছে। কয়েকটি বিষয়ের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।