• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

এগারো দিন নিখোঁজের পরে পরিত্যক্ত খনি থেকে মিলল শিশুর দেহ

Body
মঙ্গলপুরে এই জায়গাতেই মেলে দেহটি। নিজস্ব চিত্র

এগারো দিন নিখোঁজ থাকার পরে শিশুর দেহ মিলল পরিত্যক্ত খোলামুখ খনি এলাকায়। রানিগঞ্জের মঙ্গলপুরে শিশুটির পরিবার এক প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ করেছে। পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হচ্ছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ৩০ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিল বছর দু’য়েকের সঞ্জয় তাঁতি (২)। পরিবারের অভিযোগ, ৩০ জানুয়ারি দুপুরে প্রতিবেশী ফাগু ভুঁইয়া শিশুটিকে বিস্কুট দিয়ে বেড়াতে নিয়ে গিয়েছিল। ফাগু এলাকায় ভবঘুরে বলে পরিচিত। বিকেলে সে ফিরে এলেও শিশুটি সঙ্গে ছিল না। পরিবারের দাবি, শিশুটি কোথায়, তা ফাগু জানাতে না পারায় খোঁজ শুরু হয়। বাড়ি থেকে প্রায় আধ কিলোমিটার দূরে ঝোপজঙ্গলের মধ্যে ফাগুর জামা ও শিশুটির প্যান্ট মেলে।

পুলিশ জানায়, সে দিনই শিশুটির পরিবারের তরফে অভিযোগ দায়ের করার পরে ফাগুকে আটক করা হয়। এলাকায় তল্লাশি চালানো হয়। তদন্তে আনা হয় পুলিশ-কুকুরও। ৩১ জানুয়ারি ‘ড্রোন ক্যামেরা’র সাহায্যে ঘণ্টা তিনেক তল্লাশি চালানো হয়। কিন্তু শিশুটির কোনও হদিস মেলেনি। ফাগুকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতের নির্দেশে দু’দফায় মোট দশ দিন তাকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার সকালে এলাকার বাসিন্দা গেদুরি বাউড়ি পরিত্যক্ত খনি এলাকায় পাতা কুড়োতে যান। সেখানেই একটি নর্দমায় শিশুটির দেহ দেখতে পেয়ে বাসিন্দাদের খবর দেন তিনি। খবর পেয়ে আমরাসোঁতা ফাঁড়ির পুলিশ দেহ উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, দেহ আসানসোল হাসপাতালে ময়না-তদন্তে পাঠানো হয়েছে। তার রিপোর্ট পাওয়ার পরেই কবে, কী ভাবে শিশুর মৃত্যু হয়েছে, বোঝা যাবে।

শিশুটির দেহ উদ্ধারের পরে মঙ্গলপুর স্কুলপাড়ায় শোকের ছায়া নেমে আসে। দিলীপ তাঁতি ও রিঙ্কি তাঁতির পাঁচ ছেলেমেয়ের মধ্যে সঞ্জয় ছোট। পেশায় দিনমজুর দিলীপবাবু অভিযোগ করেন, তাঁর ছেলেকে খুন করা হয়েছে। গেদুরিদেবী বলেন, ‘‘প্রতিবেশীদের কারও বাড়িতে হাঁড়ি চড়েনি। বাচ্চাটার কী ভাবে এই পরিণতি হল, পুলিশ তদন্ত করে  ব্যবস্থা নিক।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন