নেতাদের কথায় বুথের কর্মীরা চলবেন না। বরং, বুথের কর্মীদের পরামর্শ নিয়েই দলকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন নেতারা। বিধানসভা ভোটে পশ্চিম বর্ধমান জেলার মাটি পুনরুদ্ধারে এমন রণনীতিই নিচ্ছেন তাঁরা, দাবি তৃণমূলের জেলা সভাপতি জিতেন্দ্র তিওয়ারির।

লোকসভা ভোটে জেলার দু’টি আসনেই বিজেপির কাছে হেরে গিয়েছে তৃণমূল। এর পরেই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব জেলা সভাপতি হিসাবে বেছে নিয়েছেন পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক তথা আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্রবাবুকে। তার পরে নিজের এলাকায় ‘দিদিকে বলো’ কর্মসূচির পাশাপাশি নানা জায়গায় গিয়ে দলের কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করছেন তিনি। দুর্গাপুরেও দলের কাউন্সিলর, নেতা-কর্মী, এমনকি বিভিন্ন ক্লাবের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি।

গত বিধানসভা নির্বাচনে দুর্গাপুরের দু’টি কেন্দ্রই হাতছাড়া হয়েছে তৃণমূলের। এ বার লোকসভা ভোটের নিরিখে দুর্গাপুর পুরসভা এলাকায় বিজেপি বড় ব্যবধানে এগিয়ে গিয়েছে। ৪৩টি ওয়ার্ডের মধ্যে মাত্র তিনটি ওয়ার্ডে‌ সামান্য ভোটে এগিয়ে ছিল তৃণমূল। তাই দুর্গাপুরের উপরে দলীয় নেতৃত্ব বিশেষ জোর দিয়েছেন বলে তৃণমূল সূত্রের খবর। জেলা সভাপতি জানান, দুর্গাপুরে বুথ স্তরের কর্মীদের বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি, বেশ কিছু ওয়ার্ডে সভাপতি বদলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে স্থানীয় নেতাদের মতামত নয়, বুথ স্তরের কর্মীদের সঙ্গে পরামর্শ করেই নতুন ওয়ার্ড সভাপতি ঠিক করতে চাইছেন দলীয় নেতৃত্ব। বুথ স্তরে সভাপতির সঙ্গে থাকবেন দু’জন কার্যকরী সভাপতি। বুথের কাজ শেষ হলে হাত দেওয়া হবে ব্লক ও মহকুমা স্তরের সংগঠনে। জিতেন্দ্রবাবু বলেন, ‘‘বুথের কর্মীরাই মানুষের সবচেয়ে কাছে থাকেন। তাই তাঁদের পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ।’’

যদিও তৃণমূলের এই উদ্যোগকে বিশেষ আমল দিতে নারাজ বিজেপি। দলের নেতা অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘‘সাধারণ মানুষের বিশ্বাস হারিয়েছে তৃণমূল। তাই এ সব করে বিশেষ লাভ  হবে না।’’