ফাঁকা আসনে ভর্তির দাবিতে আন্দোলন শুধু বিক্ষোভ-ঘেরাওতেই থেমে থাকল না। সোমবার রাতে চন্দননগর কলেজে রীতিমতো তাণ্ডব চালানোর অভিযোগ উঠল ছাত্রছাত্রীদের একাংশের বিরুদ্ধে। 
তাণ্ডবের সময় নোটিস বোর্ড ভেঙে ফেলা হয়। অধ্যক্ষের ঘরের সামনে থাকা দু’টি আলমারি উল্টে ফেলে দেওয়া হয়। লাগোয়া অফিস-ঘরের টেবিলের কাচ, কম্পিউটার, টেলিফোন-সহ বিভিন্ন জিনিস ভাঙচুর করা হয়। ওই দিন বিকেল থেকে ঘেরাও করে রাখা হয়েছিল কলেজের অধ্যক্ষ দেবাশিস সরকার এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। শেষে পুলিশি হস্তক্ষেপে রাত ১১টা নাগাদ ঘেরাওমুক্ত হন তাঁরা। আন্দোলনের পিছনে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ রয়েছে, এমন দাবি তুলেছেন কলেজের কেউ কেউ। তবে, ওই সংগঠনের কলেজ ইউনিটের দায়িত্বে থাকা পার্থ সাঁতরার দাবি, ‘‘ভর্তির দাবিতে ছাত্রছাত্রীরা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে আন্দোলন করেন। এতে সংগঠন যুক্ত নয়।’’  
অধ্যক্ষ বারবারই জানিয়েছিলেন, সংরক্ষিত এবং অনার্সের ফাঁকা আসনে নতুন করে ভর্তি করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন প্রয়োজন। তা না-মিললে কলেজের ভর্তির এক্তিয়ার নেই। চন্দননগর কলেজ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজসমূহের পরিদর্শক সুজিত চৌধুরী মঙ্গলবার জানিয়ে দিয়েছেন, সরকার অনুমোদন না-দিলে নতুন করে ভর্তি হবে না, এটাই সিদ্ধান্ত। এ দিন অধ্যক্ষ বলেন, ‘‘কলেজে গোলমালের কথা শিক্ষামন্ত্রী এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে জানানো হয়েছে।’’
ওই কলেজের বিভিন্ন বিভাগে অনার্স এবং সংরক্ষিত মিলিয়ে তিনশোরও বেশি আসন ফাঁকা রয়েছে। ওই সব আসনে ভর্তির দাবিতেই সোমবার সকাল থেকে দফায় দফায় বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্রছাত্রীরা। তাঁদের অভিযোগ ছিল, অধ্যক্ষের গাফিলতিতেই ভর্তি হচ্ছে না। বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে অধ্যক্ষ এবং শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ঘেরাও করা হয়। আন্দোলনকারীদের একাংশ কলেজ গেটের সামনে বসে বিক্ষোভ শুরু করেন। কলেজের প্রধান গেটে তালা মেরে দেওয়া হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের আলোচনাও কাজে আসেনি। রাত ১০টা নাগাদ ভাঙচুর শুরু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ আসে। আসেন চন্দননগরের পুলিশ কমিশনার পীযূষ পাণ্ডে। শেষমেশ রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ চন্দননগরের এসডিপিও রানা মুখোপাধ্যায় গিয়ে অধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। ছাত্রছাত্রীদেরও তিনি বোঝান। রাত পৌনে ১১টা নাগাদ আন্দোলন থামে। সকলে বাড়ি ফেরেন।