বারবার পুরসভার কাছে আবেদন-নিবেদনে কাজ হয়নি। শেষে এলাকার প্রাক্তন কাউন্সিলরের উদ্যোগে এলাকার প্রধান নিকাশি নর্দমা সাফাইয়ের কাজে নামলেন এলাকার বাসিন্দারা। বেলচা, শাবল, কোদাল, ঝাড়ু নিয়ে নিজেরাই নর্দমা থেকে পাঁক তুললেন। হাত লাগালেন প্রাক্তন কাউন্সিলরও। 

সোমবার সকালে এমনই দৃশ্য দেখা গেল হাওড়ার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চপলাদেবী রোডে। এলাকার বাসিন্দারা জানান, স্থানীয় একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের সামনে দিয়ে ও স্থানীয় একটি বস্তির পাশ দিয়ে যাওয়া এলাকার সব থেকে বড় নর্দমাটি (প্রায় ৮ ফুট গভীর- ৪ ফুট চওড়া) থেকে প্রতি বছর পাঁক তুলে নাব্যতা বাড়ানো হয়। যাতে প্রায় দেড় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের নর্দমাটি দিয়ে আসা গোটা এলাকার জল দাশনগর হয়ে স্থানীয় খালে পড়তে পারে। কিন্তু অভিযোগ, চলতি বছরে বর্ষার আগে নর্দমার পাঁক তোলা হয়নি। যার ফলে আবর্জনা জমে নর্দমা বুজে জল বেরোনোর রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ওই নর্দমা উপচে নোংরা রাস্তায় উঠে আসছে। 

বাসিন্দাদের অভিযোগ, বর্ষার সময়ে নর্দমাটির পাঁক ও আবর্জনা পরিষ্কার না হওয়ায় গোটা এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে। একই সঙ্গে বেড়ে গিয়েছে মশা-মাছির উপদ্রব। বৃষ্টির জলে নর্দমা এবং রাস্তা একাকার হয়ে যাওয়ায় জীবনহানির মতো পরিস্থিতিও তৈরি হচ্ছে। দিন কয়েক আগে বৃষ্টির জলে রাস্তা এবং নর্দমা এক হয়ে গিয়ে একটি শিশুর ওই গভীর নর্দমায় তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়। শিশুটিকে তার দিদি উদ্ধার করে।

শিশুটির মা শবনম ডোম এ দিন বলেন, ‘‘ওই নর্দমা আমার মেয়েটার প্রাণ নিয়ে নিত। আমরা পুরসভাকে বারবার বলেও নর্দমা পরিষ্কার করাতে পারিনি। তাই আজ সবাই মিলে নেমেছি নর্দমা পরিষ্কার করতে।’’

এলাকার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর তথা প্রাক্তন মেয়র পারিষদ বিভাস হাজরা বলেন, ‘‘প্রতি বছর এলাকার সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ নিকাশি নালাটি পরিষ্কার করা হয়। পাঁক তোলা হয়। কিন্তু এ বছর না হওয়ায় পুর কমিশনারকে আমি চিঠিও দিই। পুরসভার দায়িত্বপ্রাপ্ত নিকাশির এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারকে বারবার ফোন করে বলি। কিন্তু কেউ কোনও গুরুত্ব না দেওয়ায় আমিই এলাকার লোকজন নিয়ে পরিষ্কারের কাজ শুরু করেছি।’’

নিকাশি দফতরের এক কর্তা বলেন, ‘‘বাজেটে ১০ কোটি টাকা নিকাশির জন্য বরাদ্দ হয়েছিল। ইতিমধ্যে ৯ কোটি টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। যতটা টাকা বরাদ্দ ছিল নিকাশির কাজে খরচ হচ্ছে। ওই নর্দমাটি সংস্কারের কাজও হচ্ছে।’’

পুর কমিশনার বিজিন কৃষ্ণ বলেন, ‘‘নর্দমা নিয়ে বিভাসবাবু চিঠি দিয়েছিলেন। নিকাশি দফতর ইতিমধ্যে নর্দমাটি থেকে পাঁক তোলার প্রস্তুতি নিয়েছে। ধাপে ধাপে সব নিকাশির কাজ হচ্ছে। একটু সময় তো দিতে হবে।’’