শান্তিনিকেতন থেকে ফেরার পথে সোমবার সিঙ্গুর ব্লক অফিসে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়। রাজ্যপালের ওই কাজ অসাংবিধানিক, এই অভিযোগ তুলে বুধবার দুপুরে ওই ব্লক অফিসে বিক্ষোভ দেখালেন কয়েকশো মহিলা। যাঁদের বেশির ভাগই তৃণমূল কর্মী-সমর্থক হিসেবে এলাকায় পরিচিত। যদিও বিক্ষোভকারীদের হাতে তৃণমূলের দলীয় পতাকা ছিল না। তৃণমূলও ওই বিক্ষোভকে তাদের দলীয় কর্মসূচি হিসেবে মানতে চায়নি।

রাজ্যপাল যখন সিঙ্গুর ব্লক অফিসে গিয়েছিলেন, তখন সেখানে কোনও সরকারি পদস্থ কর্তা ছিলেন না। কর্মীরাই তাঁকে বসান। রাজ্যপাল এসেছেন শুনে সেখানে স্থানীয় কিছু লোকের ভিড় হয়। তাঁরা সিঙ্গুরের সেই জমি নিয়ে রাজ্যপালকে কিছু কথা বলেন সে দিন। প্রশ্নও করেন। রাজ্যপাল অবশ্য সিঙ্গুর সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান।

সে দিন রাজ্যপাল বিজেপির লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছিলেন বলে বুধবার দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা। তাদের মধ্যে ছিলেন হরিপালের তৃণমূল বিধায়ক বেচারাম মান্নার স্ত্রী করবীদেবীও। তিনি দলের মহিলা সংগঠনের নেত্রী। তিনি বলেন, ‘‘এই বিক্ষোভকে আমরা দলীয় রং দেওয়ার পক্ষপাতী নই। বিক্ষোভ দেখিয়েছেন সিঙ্গুরের মহিলারাই। কারণ, সাংবিধানিক পদে থেকে রাজ্যপাল মুখে সংবিধানের বহু কথা বলেন। কিন্তু সে দিন তিনি অসাংবিধানিক কাজ করেছেন। সিঙ্গুরের প্রশাসন জানে না, হঠাৎ করে তিনি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের লোকজনের সঙ্গে ব্লক অফিসে বৈঠক করলেন। এর প্রতিবাদেই আমাদের বিক্ষোভ। কেন তাঁর এই পক্ষপাতিত্ব? কথা বলতে হলে সকলকে ডাকলে পারতেন।’’

এ ভাবে বিক্ষোভ দেখিয়ে তৃণমূল জলঘোলা করছে বলে দাবি করেছেন জেলা বিজেপি-র সাংগঠনিক সভাপতি (সদর) সুবীর নাগ। তিনি বলেন, ‘‘সে দিন আমাদের দলের ছেলেদের আগ্রহ ছিল, তাই তাঁরা রাজ্যপালের সঙ্গে কথা বলেছেন। কারও তো নিষেধ ছিল না। স্থানীয় কিছু বিষয় তাঁরা সে দিন রাজ্যপালের কাছে তুলে ধরেন। এ জন্য বিক্ষোভ? ’’