ডাক মারফত নতুন এটিএম কার্ড দুপুরে পৌঁছছিল গ্রাহকের কাছে। তার ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যে ব্যাঙ্কের আধিকারিক পরিচয়ে ফোন করে ওই কার্ডের নম্বর জেনে অ্যাকাউন্ট কার্যত সাফ করে দিল প্রতারক। শুক্রবার ঘটনাটি ঘটেছে চন্দননগরে। সুপর্ণা দে নামে প্রতারিত ওই গ্রাহক চন্দননগর থানা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্কে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। শনিবার রাত পর্যন্ত অবশ্য তার কিনারা অবশ্য হয়নি।

পুলিশ ও স্থান‌ীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, চন্দননগরের হেলাপুকুরের বাসিন্দা সুপর্ণাদেবী এবং তাঁর স্বামী ছোটখাটো কাজ করেন। সুপর্ণাদেবী শহরের তেমাথা এলাকার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের গ্রাহক। সম্প্রতি তিনি এটিএম কার্ডের জন্য সেখানে আবেদন করেন। তিনি জানান, শুক্রবার বেলা দু’টো নাগাদ তাঁর বাড়িতে এটিএম কার্ড পৌঁছয়। বিকেল চারটে নাগাদ তাঁর মোবাইলে একটি ফোন আসে। একটি পুরুষকণ্ঠ ব্যাঙ্কের আধিকারিক পরিচয় দিয়ে এটিএম কার্ডে লেখা ১৬ সংখ্যার নম্বর জানতে চায়। মহিলা তা দিয়ে দেন। অভিযোগ, এর পরেই তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ৩০ হাজার টাকা তুলে নেওয়া হয়।

শনিবার সকালে তিনি কার্ডের পিন এবং কার্ড ব্যবহারের বিষয়ে কিছু প্রশ্ন নিয়ে ব্যাঙ্কে যান। সেখানে পাশবই আপডেট করতেই প্রতারণার বিষয়টি ধরা পড়ে। তিনি দেখেন, জমানো ৩৪ হাজার টাকার মধ্যে চার হাজার টাকা অ্যাকাউন্টে পড়ে রয়েছে। বাকি টাকা গায়েব। পুলিশের দ্বারস্থ হন‌ সুপর্ণাদেবী। তিনি বলেন, ‘‘অনেক কষ্ট করে দীর্ঘদিন ধরে টাকা জমিয়ে ছিলাম। টাকা তোলার সুবিধার্থে এটিএম কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলাম। কিন্তু কার্ড আসামাত্রই যে এ ভাবে প্রতারণার শিকার হব, কল্পনাও করতে পারিনি।’’ তাঁর প্রশ্ন, ‘‘কার্ড আসামাত্রই প্রতারকেরা কী ভাবে জেনে গেল?’’

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

এই প্রশ্ন পুলিশকেও ভাবাচ্ছে। চন্দননগর কমিশনারেটের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘ওই গ্রাহকের অভিযোগের তদন্ত হচ্ছে। এই ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য প্রচারমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সচেতন করা হয়। তাতেও সাধারণ মানুষ ফোনে গোপন তথ্য দিয়ে দিচ্ছেন। সেই কারণেই এমন ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না।’’ ফোনে যোগাযোগ করা হলে ব্যাঙ্কের এক আধিকারিক জানান, এটিএম কার্ড এখান‌ থেকে সরবরাহ করা হয় না। দুষ্টচক্রের লোকেরা কী করে সঙ্গে সঙ্গে খবর পেল, পুলিশ তদন্তে নিশ্চয়ই এই দিকটাও দেখবে।