• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

প্রতিবাদীকে তুলে নিয়ে বেধড়ক মার হাওড়ায়, তিরের ফলায় তৃণমূল

2
জখম লক্ষ্মী রায়। —নিজস্ব চিত্র।

ফের প্রতিবাদীকে পেটানোর অভিযোগ হাওড়ায়। অভিযোগ, সরকারি জমি বিক্রির প্রতিবাদ করায় তুলে নিয়ে গিয়ে ঘরে আটকে রড দিয়ে বেধড়ক পেটানো হল এক ব্যক্তি ও তাঁর সঙ্গীকে। এ বারও কাঠগড়ায় স্থানীয় এক তৃণমূল নেতা। মঙ্গলবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে হাওড়া পুরসভার ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের বিবেকানন্দ পল্লিতে।

রাজ্যের মন্ত্রী ও তৃণমূলের হাওড়া জেলা সভাপতি (শহর) অরূপ রায় বলেন, “এলাকার যে নেতার বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ, তাঁকে এর আগে দুর্নীতির দায়ে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এ বার প্রয়োজনে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে।”

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দক্ষিণ হাওড়ার বাকসাড়ার পূর্ব প্রান্তে একটি ৩০০ একরের জলাজমি হাওড়া শহরের নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়নের কাজে লাগানোর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। পদ্মপুকুর জলা বলে পরিচিত ওই জলাজমিতে কেএমডিএ, হাওড়া পুরসভা ও হাওড়া উন্নয়ন সংস্থার জমি রয়েছে। পরে ঠিক হয়, ওই নিচু জলাজমি ঘিরে তৈরি হবে ইকো-পার্ক । কিন্তু গত এক দশকে তার কিছুই হয়নি। অভিযোগ, বছর দু’য়েক ধরে ওই জমিই কাঠা পিছু ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা দরে বিক্রি করছে একটি চক্র। যে চক্রের মাথা স্থানীয় এক তৃণমূল নেতা।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি ওই নেতাই বিবেকানন্দ পল্লির বাসিন্দা লক্ষ্মী রায় নামে এক ব্যক্তিকে জলাজমির ক্রেতা খুঁজে আনার নির্দেশ দেন। সরকারি জমি বিক্রির দালালি করতে অস্বীকার করে লক্ষ্মীবাবু ওই জমি বিক্রির প্রতিবাদ করেন। অভিযোগ, এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ৪১ ওয়ার্ডের নম্বর যুব তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি ওই নেতা। মঙ্গলবার রাতে লক্ষ্মীবাবু ও তাঁর এক সঙ্গীকে রাস্তা থেকে জোর করে তুলে নিয়ে গিয়ে একটি ঘরে আটকে বেধড়ক মারধর করে দুষ্কৃতীরা। অভিযোগ, তারা সকলেই এলাকায় তৃণমূলের নেতা ও কর্মী বলে পরিচিত।

বুধবার সকালে এই ঘটনার কথা জানাজানি হলে বাকসাড়া এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায়। এ দিনই স্থানীয় বটানিক্যাল গার্ডেন থানায় কয়েক জন দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ দায়ের করেন লক্ষ্মী। এর পরেই অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান এলাকার কয়েকশো মহিলা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, জমি বিক্রির ওই চক্রটি এলাকায় দাপিয়ে বেড়ালেও পুলিশ এত দিন নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে। এমনকী দুষ্কৃতীদের না ধরে প্রতিবাদীদের ধরে নিয়ে গিয়ে হেনস্থাও করেছে।

এ দিন বিবেকানন্দ পল্লির বাড়িতে নিজের ক্ষতবিক্ষত পিঠ দেখিয়ে লক্ষ্মী বলেন, “আমাকে ঘরে আটকে রেখে লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করা হয়েছে। তেষ্টা পেলে জলটুকুও দেওয়া হয়নি। পরে রাতে ওই ঘরের পিছনের জানলা ভেঙে পালিয়ে আসি।”

স্থানীয় বাসিন্দা ছবি বড়ুয়া বলেন, “তৃণমূলের ওই নেতা ও তাঁর বাহিনীর দৌরাত্ম্যে আমরা আতঙ্কিত। পুলিশকে বারবার জানিয়েও লাভ হয়নি। ওঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে উল্টে পুলিশ আমাদের নিয়ে গিয়ে হেনস্থা করে।” এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই নেতা স্থানীয় তৃণমূল কাউন্সিলর তথা হাওড়া পুরসভার চেয়ায়ম্যান অরবিন্দ গুহর ঘনিষ্ঠ। তাই ইচ্ছা থাকলেও পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে পারে না। যদিও অরবিন্দবাবু বলেন, “যাঁরা এ সব কাজ করছে, তাঁরা দুষ্কৃতী। আমাদের দলের কেউ নয়। আমাদের দলে এ রকম কাজ কেউ করলে আমি পুলিশকে বলব অবিলম্বে তাঁকে গ্রেফতার করে কড়া শাস্তি দিতে।”

জমি বিক্রির বিষয়টি তাঁর জানা নেই বলে দাবি করেছেন অরবিন্দবাবু। কিন্তু পুরসভার চেয়ারম্যানের ওয়ার্ডে থাকা সরকারি জমি বিক্রি হয়ে যাচ্ছে, অথচ তিনি জানেন না কেন?

অরবিন্দবাবু বলেন, “এমন একটা অভিযোগ পেয়েছিলাম। পুলিশকে ব্যবস্থা নিতেও বলি। কিন্তু ফের যে হচ্ছে, জানতাম না। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।” হাওড়ার মেয়র রথীন চক্রবর্তী বলেন, “সরকারি জমি বিক্রির ব্যাপারে আমার কাছে লিখিত কোনও অভিযোগ এলে দল না দেখেই কড়া ব্যবস্থা নেব। এ ব্যাপারে কাউকে রেয়াত করব না।”

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন