ভারসাম্যহীন এক মহিলাকে বিভিন্ন সময়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠল তাঁর আট প্রতিবেশীর বিরুদ্ধে। খানাকুলের বছর ছত্রিশের অবিবাহিত ওই মহিলা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে মহিলার ভাই থানায় অভিযোগ দায়ের করা পুলিশ সাত জনকে গ্রেফতার করেছে।

পুলিশ জানায়, ধৃতদের নাম মেঘনাদ কোটাল, রতিকান্ত কোটাল, রঞ্জন কোটাল, গোবিন্দ পোড়ে, শান্তিরাম জানা, হারাধন জানা এবং প্রশান্ত জানা। পলাতক লাল্টু জানার খোঁজ চলছে। ধৃতদের বয়স ৭২ থেকে ৪০-এর মধ্যে। তাদের শুক্রবার আরামবাগ আদালতে হাজির করানো হয়। বিচারক সকলকে ১৪ দিন জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। এ দিনই আরামবাগ হাসপাতালে ওই মহিলার ডাক্তারি পরীক্ষা করানো হয়। তিনি আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। ডাক্তারি পরীক্ষা হয় ধৃতদেরও। তাদের দাবি, তাদের ফাঁসানো হয়েছে।

নির্যাতিতার ভাইয়ের দাবি, ‘‘দিদিকে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে এবং আলট্রা-সোনোগ্রাফি করার পরেই বিষয়টি জানতে পারি। যারা ওই অপকীর্তি করেছে, দিদিই তাদের নাম বলেছে।’’ ভাই আরও বলেন, ‘‘দিদি কিছুটা মানসিক ভারসাম্যহীন। রান্না করে এবং বাবাকে দেখশোনাও করে। বাড়িতে কেউ এলে নামও বলতে পারে। প্রতিবার বাড়ি ফিরে যে সব ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীদের ওঁদের দিকে লক্ষ্য রাখার কথা বলে যেতাম, তারাই দিদির সর্বনাশ করল।’’ 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মহিলার বাবা বার্ধক্যজনিত অসুখে শয্যাশায়ী। মা বছর তিনেক আগে ক্যানসারে মারা যান। চার বোনের মধ্যে ওই মহিলা দ্বিতীয়। তিন বোনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। একমাত্র ভাই গুজরাতে সোনার দোকানে কাজে করেন। মাঝেমধ্যে ফেরেন। মহিলা বাবার সঙ্গে থাকেন। তাঁর ভাই গত ২৫ ডিসেম্বর বাড়ি ফেরেন।