• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

কংক্রিটের আড়াল ভাঙবে গনগনিতে

Canyon
পর্যটকদের নদীখাতে নামার জন্য দেওয়া হয়েছিল রেলিং। সংস্কারের অভাবে তা অনেক জায়গায় ভেঙে গিয়েছে। ছবি: কিংশুক আইচ
গনগনির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ঢাকা পড়ছিল  কংক্রিটের দেওয়ালে। সেই দেওয়ালের অর্ধেক ভেঙে দিয়ে পর্যটকদের কাছে গনগনিকে  আকর্ষণীয় করার নির্দেশ দিলেন অতিরিক্ত জেলাশাসক সৌর মণ্ডল।
 
সোমবার বিকেলে গড়বেতার গনগনি পরিদর্শন করেন অতিরিক্ত জেলাশাসক। সঙ্গে ছিলেন সদর মহকুমাশাসক দীননারায়ণ ঘোষ। প্রস্তাবিত পর্যটনকেন্দ্রের কাজ দ্রুত শুরু করতেই এ দিনের পরিদর্শন। সেখানেই পূর্ত দফতরের ইঞ্জিনিয়ারদের উদ্দেশে অতিরিক্ত জেলাশাসক ঝোপঝাড় পেরিয়ে দেওয়ালের কাছে গিয়ে হাত দিয়ে দেখিয়ে বলেন, ‘‘দেওয়ালের জন্য অসুবিধা হচ্ছে পর্যটকদের। তাই দেওয়ালের অর্ধেক অংশ ভেঙে দিয়ে তার উপরে সুদৃশ্য রেলিং দিয়ে সাজাতে হবে, যাতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখতে অসুবিধা না হয় পর্যটকদের।’’ তাঁর কথায় সম্মতি জানান উপস্থিত গড়বেতা ১ ব্লক প্রশাসনের প্রতিনিধিরা। 
 
৪-৫ বছর আগে তৃণমূল পরিচালিত গড়বেতা ১ পঞ্চায়েত সমিতি ও গ্রাম পঞ্চায়েতের পরিকল্পনায় গনগনির একটা বৃহৎ অংশজুড়ে কংক্রিটের দেওয়াল তুলে ঘিরে দেওয়া হয়েছিল। ৫ ফুট উচ্চতার নীল-সাদা রঙে সাজানো এই দেওয়ালে আড়াল হচ্ছিল গনগনির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ভূমিরূপের পরিবর্তন। খাদের উপরের একটা অংশ থেকে দেখাই যেতো না সেইসব শোভা সহ শিলাবতী নদীর আঁকাবাঁকা গতিপথ। বেশ কিছুটা ঘুরেই পর্যটকদের দেখতে হত ‘বাংলার গ্র্যাান্ড ক্যানিয়নে’র দৃশ্য। গনগনির এই দেওয়াল নিয়ে ক্ষোভের অন্ত ছিল না পর্যটকদের। সমালোচনার ঝড় বয়ে সমাজমাধ্যমেও।  
 
গনগনিতে বহু অর্থ ব্যয়ে অপরিকল্পিতভাবে করা দেওয়াল নিয়ে ক্ষোভও আছে গড়বেতার বিভিন্ন মহলের। কেনও এই দেওয়াল নির্মাণ করা হয়েছিল তার সদুত্তর নেই বর্তমান তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতের কর্মকর্তাদের কাছে। পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ ফারুখ মহম্মদ বলেন, ‘‘কী জন্য এই দেওয়াল করা হয়েছিল জানি না।’’ গড়বেতা গ্রাম পঞ্চায়েতের বর্তমান প্রধান শ্যামল বাজপেয়ী বলেন, ‘‘৪-৫ বছর আগে এই দেওয়াল করা হয়েছিল গনগনিতে, যা গনগনির সঙ্গে মানানসই নয়।’’ গড়বেতার বিধায়ক আশিস চক্রবর্তী বলেন, ‘‘অতিরিক্ত জেলাশাসক এসে বলে গিয়েছেন দেওয়ালের উচ্চতা অর্ধেক কমিয়ে সুদৃশ্য রেলিং করার, সেইমতো কাজ হবে।" বিডিও সেখ ওয়াসিম রেজা বলেন, "খুব শীঘ্রই গনগনিতে দেওয়াল সহ অন্যান্য কাজ শুরু হয়ে যাবে।’’ 
 
প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে খুশি প্রকৃতিপ্রেমীরা। গড়বেতার শ্যামল সাহা, তপন চক্রবর্তীরা দেওয়াল ভাঙার খবরে খুশি। তাঁদের কথায়, ‘‘প্রকৃতি পর্যটনে খুবই বেমানান এই কংক্রিটের দেওয়াল, সেটার উচ্চতা অর্ধেক করে রেলিং করলে ভালই হবে।’’ মঙ্গলবার গনগনিতে বেড়াতে আসা মেদিনীপুরের এক শিক্ষক দম্পতি বলেন, ‘‘প্রশাসনের এটা আগেই ভাবা উচিত ছিল।"

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন