এক রোগী মৃত্যুর পরে ট্রলি নিয়ে অভিযোগ উঠল। অভিযোগ, ট্রলি ঠেলার লোক ছিল না। ফলে, দ্রুত রোগীকে ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। ঘটনা মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের। খোদ হাসপাতাল সুপারের দফতরে এ নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন মৃতের পরিজনেরা। ট্রলি নিয়ে অভিযোগ যে এসেছে তা মানছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালের সুপার তন্ময়কান্তি পাঁজার সাফাই, ‘‘লোকবল কম। আমরা কী করতে পারি!’’ তাঁর সংযোজন, ‘‘ট্রলি নিয়ে প্রায়ই অভিযোগ আসে।’’ 

বৃহস্পতিবার বিকেলে মেদিনীপুর মেডিক্যালে মৃত্যু হয়েছে গৌরাঙ্গ দেব (৫৮)-এর। গৌরাঙ্গের ভাই শীতল দেব বলেন, ‘‘রোগী বহন করার লোকের অভাবে এ ভাবে কারও মৃত্যু খুবই দু:খজনক। হাসপাতালের উচিত, এ ভাবে কেউ যাতে মৃত্যুর মুখে না- পড়েন তার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া।’’ মৃত গৌরাঙ্গের বাড়ি মেদিনীপুর শহরের বিদ্যাসাগরপল্লিতে। প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক ছিলেন তিনি। দিন কয়েক অসুস্থ ছিলেন। বুধবার রাতে অসুস্থতা বাড়ে। সবদিক দেখে তাঁকে মেদিনীপুর মেডিক্যালে নিয়ে আসেন পরিজনেরা। হাসপাতালে পৌঁছনোর পর ঠিক কী হয়েছিল? শীতলের কথায়, ‘‘দাদাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে ওয়ার্ডে পাঠানো হয়েছিল। ট্রলি ঠেলার লোক পাইনি। পরে কোনও রকমে দাদাকে ওয়ার্ডের কাছে নিয়ে আসি। লিফটও খারাপ ছিল। ওয়ার্ড থেকে স্ট্রেচার এনে দাদাকে ওয়ার্ডে নিয়ে যাচ্ছিলাম। সিঁড়িতেই মৃত্যু হয়েছে।’’ তাঁর আক্ষেপ, দ্রুত ওয়ার্ডে ভর্তি করা সম্ভব হলে হয়তো দাদা বেঁচে যেতেন! জরুরি বিভাগ থেকে ওয়ার্ডের ভবনে আসতে, ওয়ার্ড থেকে স্ট্রেচার নামাতে প্রায় পনেরো মিনিট কেটে গিয়েছে।

মেদিনীপুর মেডিক্যালে আলাদা করে ট্রলি বুথ নেই। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ট্রলি রাখা থাকে। চাইলেই অবশ্য পাওয়া যায় না। রোগীর পরিজনেদের ‘গেট- পাস’ জমা রেখে ট্রলি নিতে হয়। রোগী ভর্তি করানোর পরে ট্রলি ফেরত দিলেই তবে ওই ‘গেট- পাস’ ফেরত পাওয়া যায়। রোগীকে এক বিভাগ থেকে অন্য বিভাগে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রেও ট্রলি ব্যবহারের একই ‘নিয়ম’ রয়েছে। কেন এই নিয়ম? হাসপাতালের এক কর্তার সাফাই, ‘‘জরুরি বিভাগে রোগী আসার পরে নির্দিষ্ট জায়গা থেকে ট্রলি পাওয়া যায়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে রোগীর পরিজনেরা ট্রলি নিয়ে চলে গেলেও তা ফিরিয়ে আনতেন না। তাই ‘গেট- পাস’ জমা রাখার কথা ভাবা হয়।’’ 

 দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

 হাসপাতালের এক সূত্র মানছে, ট্রলি ঠেলার জন্য জরুরি বিভাগে দু’জন কর্মী থাকার কথা। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই কোনও কর্মী থাকেন না। ট্রলি ঠেলতে হয় রোগীর পরিজনেদেরই। কোনও রোগীর সঙ্গে একজন পরিজন এলে তাঁকে খুবই সমস্যায় পড়তে হয়। অনেক সময়ে মুমূর্ষু রোগীর জন্য ট্রলি পেতেও পরিজনেদের কালঘাম ছুটে যায়। । ওয়ার্ডগুলোয় স্ট্রেচারের সংখ্যাও কম থাকে। বেশিরভাগ ওয়ার্ডে একটির বেশি দু’টি স্ট্রেচার নেই। থাকলেও তা পরিজনেদের ব্যবহার করতে দেওয়া হয় না। 

ট্রলি, স্ট্রেচারের অভাবে এ ভাবে তাহলে রোগীর পরিজনেরা সমস্যায় পড়তেই থাকবেন? হাসপাতালের এক কর্তার সাফাই, ‘‘ ঘটনাকে ছোট করে দেখা হচ্ছে না। পদক্ষেপ করা হবে।’’ রোগীর পরিজনেদের বক্তব্য, এমন আশ্বাস তো আগেও মিলেছে।