মনোনয়নের আগেই উত্তপ্ত পাঁশকুড়া। রবিবার বিজেপি নেতা আনিসুর রহমানের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। আক্রান্ত হয়েছেন ব্লক তৃণমূল কার্যকরী সভাপতি কুরবান শাহও। হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে তাঁকে। এ ক্ষেত্রে অভিযোগ উঠেছে আনিসুরের অনুগামীদের বিরুদ্ধে। রাতেই আনিসুরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিজেপি এ ক্ষেত্রে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছে।

পাঁশকুড়ায় শাসক দলের কাঁটা পাঁশকুড়ার প্রাক্তন পুরপ্রধান আনিসুরই। তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন তিনি। এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতার হন আনিসুর। আদালতের নির্দেশে জামিন পেয়ে সম্প্রতি জেল থেকে পাঁশকুড়ায় ফিরেছেন আনিসুর। আদালতের নির্দেশে বেড়েছে মনোনয়ন জমার দিন। স্থানীয় সূত্রের খবর, সোমবার যাতে মনোনয়ন জমা দিতে কোনও অসুবিধা না হয় সে জন্য এ দিন বিএড কলেজের ক্যাম্পাসে বৈঠক ডেকেছিলেন আনিসুর। এ দিন বিকেলে পাঁশকুড়ার রাতুলিয়া বাজারে দলের প্রার্থীদের সমর্থনে সভা  ডেকেছিল তৃণমূল। কুরবান, দলের জেলা নেতা জাইদুল খান সহ প্রায় দেড়শো জন তৃণমূল কর্মী-সমর্থক মোটরসাইকেলে চেপে পাঁশকুড়া পুরাতনবাজারের দিক থেকে মিছিল করে ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে রাতুলিয়া বাজারের (মেদিনীপুরের) দিকে যাচ্ছিলেন। সে সময় আনিসুর গাড়িতে চেপে কলেজে ঢুকছিলেন। এ সময় মোটরবাইক থেকে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা নেমে আনিসুরের গাড়িতে আক্রমণ চালায় বলে অভিযোগ।

কলেজ চত্বরেই তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। আনিসুর অনুগামীদের পাল্টা আক্রমণে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকেরা পালায়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থতি সামাল দেয়। আহত তৃণমূল নেতা কুরবান শাহকে উদ্ধার করে পাঁশকুড়া সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।

আনিসুরের অভিযোগ, ‘‘কুরবান শাহ  ও জাইদুল খান আমাকে মারধর করেছে। গাড়ি ভাঙচুর করেছে। তৃণমূলের হামলায় আমাদের চারজন সমর্থক আহত হয়েছে।’’ অভিযোগ অস্বীকার করে আনিসুরের দিকে পাল্টা আঙুল তুলেছেন জাইদুল। তাঁর কথায়, ‘‘আনিসুরের নেতৃত্বে বিজেপি সমর্থকেরা অস্ত্র নিয়ে কুরবান সহ আমাদের কর্মীদের উপর আক্রমণ চালায়। মারধরে কুরবানের মাথা ফেটে গিয়েছে। অস্ত্রের আঘাতে হাত কেটে গিয়েছে। দলের  দুই কর্মীও আহত হয়েছেন।’’