বামেদের ডাকা দেশব্যাপী দু’দিনের ধর্মঘটের প্রথমদিন মোটের উপর নির্বিঘ্নেই কাটল। কয়েকটি এলাকায় বনধ সমর্থকরা বাধা দিলেও জেলার সর্বত্র এ দিন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অফিস, স্কুল-কলেজ খোলা ছিল।

হলদিয়া-মেচেদা জাতীয় সড়ক, দিঘা- নন্দকুমার জাতীয় সড়ক ও হাওড়া-মুম্বই ৬ নম্বর জাতীয় সড়কে সকাল থেকে সরকারি ও বেসরকারি বাস চলতে শুরু হলেও বিভিন্ন জায়গায় অবরোধে আটকে পড়ে। তবে পুলিশ ও প্রশাসনের সক্রিয়তায় সে সব ওই সব অবরোধ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তবে আর পাঁচটা দিনের তুলনার বেসরকারি বাসের সংখ্যা কম ছিল।

তমলুক-সহ হলদিয়া, কাঁথি ও এগরা মহকুমায় প্রশাসনিক অফিস সহ সমস্ত অফিস, স্কুল-কলেজ খোলা ছিল। ঝাঁপ খোলাই ছিল শহরের অধিকাংশ দোকানপাটের। তবে বিভিন্ন ব্যাঙ্কের শাখা অফিসে কর্মীদের অনেকে না আসার পাশাপাশি কোনও কোনও ব্যাঙ্কের সামনে বনধ সমর্থকরা পিকেটিং করায় ব্যাঙ্কের কাজ ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে ব্যাঙ্কে এসে বহু গ্রাহক হয়রানির মুখে পড়েন। 

এদিন সকালে পাঁশকুড়া পুরাতন বাজারের কাছে পশ্চিম ন্যাকড়ায় সিপিএম বিধায়ক ইব্রাহিম আলির নেতৃত্বে হাওড়া-মুম্বই ৬ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ হয়। ফলে যানজটে আটকে পড়ে বহু গাড়ি। পরে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ ওঠে। পাঁশকুড়ার রঘুনাথবাড়ি স্টেশনে পাঁশকুড়া-হলদিয়া ও দিঘাগামী রেললাইন অবরোধ করেন বাম সমর্থকরা। ফলে দিঘা-সাঁতরাগাছি লোকাল, হলদিয়া লোকাল ও তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেস আটকে পড়ে। বেশ কিছুক্ষণ পর ফের ট্রেন চলাচল শুরু হয়। 

কোলাঘাট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে অবশ্য স্বাভাবিক কাজ ও বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। হলদিয়ার মহকুমাশাসক কুহক ভূষণ বলেন, ‘‘হলদিয়া শিল্পাঞ্চলে ধর্মঘটের কোনও প্রভাব পড়েনি।  জনজীবন স্বাভাবিক ছিল। ধর্মঘটের মোকাবিলা করতে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছিল। সেখানে কোনও অভিযোগ আসেনি।’’ কাঁথি শহর ও দিঘা পর্যটন কেন্দ্রে ধর্মঘটের প্রভাব পড়েনি। কাঁথি শহরে স্কুল, কলেজ ও বাজারের দোকানপাট অন্য দিনের মতোই খোলা ছিল। শহরে ধর্মঘটের সমর্থনে এসইউসি সমর্থকরা মিছিল করে। ধর্মঘটের বিরোধিতা করে পুরপ্রধান সৌমেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা শহরে মিছিল করেন।

এগরা শহরের ত্রিকোণ মোড়ে বাম সমর্থকরা এ দিন সড়ক অবরোধ করেন। পুলিশ অবরোধকারীদের সরাতে গেলে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে অবরোধকারীদের হটিয়ে দেয়। একজন বাম সমর্থককে গ্রেফতার করে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে রাস্তায় বাস-ট্রেকার চলাচল কমে যায়। সিপিএমের জেলা সম্পাদক নিরঞ্জন সিহির দাবি, ‘‘পুলিশ-প্রশাসনের বাধা সত্ত্বেও ধর্মঘটে মানুষ সাড়া দিয়েছেন। বন‌্ধ সফল হয়েছে।’’

বিজেপির তমলুক জেলা সভাপতি প্রদীপ দাস বলেন, ‘‘বামেদের সাংগঠনিক যা শক্তি তাতে দু’ঘণ্টা ধর্মঘট করারও শক্তি নেই। অথচ দু’দিনের ধর্মঘট ডেকেছে। মানুষ এই ধর্মঘট প্রত্যাখান করেছে।’’

জেলা তৃণমূল সভাপতি শিশির অধিকারীর দাবি, ‘‘জেলায় ধর্মঘটের কোনও প্রভাব পড়েনি। জনজীবন স্বাভাবিক ছিল।’’