রাতে ছেলে তারস্বরে গান বাজানোয় প্রতিবাদ করেছিলেন বাবা। ভোজালি নিয়ে বাবার উপর মদ্যপ ছেলে চড়াও হলে ছুটে আসেন মা। বাবা বেঁচে গেলেও ভোজালি দিয়ে মাকে খুন করার অভিযোগ উঠল ছেলের বিরুদ্ধে। রবিবার রাতে পিংলার জামনা গ্রাম পঞ্চায়েতের টুঙুর গ্রামের শবর পাড়ার ওই ঘটনায় মৃতের নাম ডলি ভক্তা মল্লিক (৪০)।

ভোজালির কোপে জখম হয়েছেন মৃতার স্বামী মুরলী মল্লিক। তাঁকে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পরেই মৃতার ছেলে মনো মল্লিককে আটক করে পিংলা থানার পুলিশ। পরে ওই তরুণের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন অভিযুক্তের মামা খড়্গপুর গ্রামীণের বাসিন্দা গুড়া ভক্তা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জলাজমি থেকে গেঁড়ি সংগ্রহ করে এক ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে সংসার চালাতেন মুরলী মল্লিক ও তাঁর স্ত্রী ডলি। বছর দেড়েক আগে জড়ির কাজে বেঙ্গালুরু চলে গিয়েছিল ছেলে মনো মল্লিক। দিন পনেরো আগে ছুটিতে বাড়িতে এসেছিলেন ওই তরুণ। এর পরে তিনি প্রতিদিন মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে এসে অশান্তি করতেন বলে অভিযোগ।

এ দিন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে জখম মুরলী মল্লিক অভিযোগ করেন, “ছেলে নেশা করে বাড়িতে এসে সাউন্ড বক্সে জোরে গান বাজাচ্ছিল। তাই আমি বন্ধ করতে বলেছিলাম। তখনই আমাকে ভোজালি দিয়ে মারতে থাকে। আমার স্ত্রী ছেলেকে বাধা দিতে গেলে ওর মাকেও ভোজালির কোপ মারে।”

জামনা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান শেখ মফিজুল বলেন, “ওই শবর এলাকার প্রতিটি পরিবার নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে। রবিবার রাতে মনো মল্লিক মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে এসে জোরে সাউন্ড বক্স বাজাচ্ছিল। সেটার প্রতিবাদ করাতেই ভোজালি দিয়ে নিজের বাবা-মাকে মারে ওই তরুণ। তাতে মায়ের মৃত্যু হয়।”

যদিও গোটা ঘটনা নিয়ে ধন্দে রয়েছে পুলিশ। পুলিশের একটি সূত্রে দাবি, ওই যুবক বাড়িতে থাকতে চাইতেন না বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে। ওই দিন রাতে মুরলী মল্লিক ছেলেকে বাড়িতে থাকার দাবি জানায়। এই নিয়েই অশান্তির জেরে এমন ঘটনা বলে পুলিশের অনুমান। খড়্গপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশী বলেন, “বাবা-মার সঙ্গে ছেলের অশান্তির জেরে এই ঘটনা বলে প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে। তবে অশান্তির কারণ এখনও জানা যাচ্ছে না। আমরা গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”