• নিজস্ব প্রতিবেদন
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ঘরে ফিরে ওঁরা বাইক হাঁকাচ্ছেন 

Corona
বাসে ওঠার ভিড়।—ছবি পিটিআই।

তাঁর উদ্বেগ প্রায় আতঙ্ক হয়ে ফিরে এল রাজ্যে।

ভিন দেশ তো বটেই দেশের ভিন রাজ্যগুলি থেকেও কাজ-হারানো বহু শ্রমিক কোনওরকম পরীক্ষা ছাড়াই গ্রামে ফিরে আসছেন। তারপর, নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে তাঁরা মিশে যাচ্ছেন ভিড়ে। তাঁর হালহকিকত খতিয়ে দেখা দূরের কথা, খোঁজ মেলাই ভার হয়ে উঠছে বিভিন্ন জেলা প্রশাসনের কাছে।

সোমবার নবান্নে সর্বদলীয় বৈঠকে সে আশঙ্কাই ফের উঠে এল মুখ্যমন্ত্রীর কথায়। সরকারের আশঙ্কা, সংক্রমণের তৃতীয় পর্যায়ে করোনাভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ার (কমিউনিটি স্প্রেডিং) প্রবণতা খুব বেশি। অন্য রাজ্য কিংবা পশ্চিম এশিয়ায় কাজ করতে যাওয়া রাজ্যের এই বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিকেরা দিন কয়েক আগে এলেও পরিস্থিতি এমন উদ্বেগজনক হত না বলেই মনে করছে স্বাস্থ্যদফতর। মুখ্যমন্ত্রীর আক্ষেপ, ‘‘দু’মাস ধরে সকলকে স্ক্রিনিং-এর কথা বলছি। এই সময়ে কমিউনিটি স্প্রেডিং-এর আশঙ্কা থেকে যায়।’’ কিন্তু তৃতীয় পর্যায়ের মুখে দলে দলে ঘরমুখী এই শ্রমিকেরা প্রায় বিনা পরীক্ষায় ছড়িয়ে পড়েছেন যে যাঁর আপন গাঁ-গঞ্জে। সংক্রমণের সম্ভাবনাও তাতে বেড়ে গিয়েছে অনেক, এমনই মনে করছেন স্বাস্থ্যকর্তারা। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় গত সপ্তাহে ৯০০ জন এমন শ্রমিককে আলাদা করে রাখা হয়েছিল। সোমবার সেই সংখ্যাটা এক লাফে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪১০০। স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা বলছেন, ‘‘জেলা প্রশাসনগুলিকেও এ ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে ঠিকই কিন্তু বাস্তবে তা কতটা কার্যকর করা যাচ্ছে তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।’’ এই পরিস্থিতিতে ভিন রাজ্য কিংবা ভিন দেশ থেকে ট্রেনে আসা ঠেকাতে ইতিমধ্যেই রেলবোর্ডের চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছেন মুখ্যসচিব রাজীব সিংহ। 

ঘরে ফেরা এই পরিযায়ী শ্রমিকদের তালিকায় প্রথম সারিতে রয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলা। গত কয়েক দিনে জেলায় অন্তত দু’হাজার শ্রমিক ফিরে এসেছেন কেরল-মহারাষ্ট্র-দিল্লি-বেঙ্গালুরু কিংবা চেন্নাই থেকে। পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকেও বেসরকারি হিসেবে গ্রামে ফিরেছেন অন্তত ৭৫০ জন শ্রমিক। যাঁদের সিংহভাগেরই ঠিকানা এ জেলার ডোমকল মহকুমার বিভিন্ন গ্রামে।  মহকুমা প্রশাসনের হিসেব বলছে, গত এক সপ্তাহে ডোমকল ব্লকে বিদেশ থেকে ফিরেছেন ৩৪ জন ভারতীয় নাগরিক। ভিন রাজ্য ফেরত শ্রমিকদের সংখ্যা ১২৩৫ জন। তাঁদের সবাইকেই ১৪ দিনের হোম কোয়রান্টিনের দাওয়াই দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। কিন্তু সে নিয়ম মানছে কে? ভিন দেশ থেকে মুম্বই কিংবা আমদাবাদ এয়ারপোর্টে নেমে তাঁদের অধিকাংশই ট্রেন ধরে হাওড়া কিংবা শিয়ালদহ স্টেশনে নামছেন। তার পর বাস ধরে যে যাঁর গ্রামের পথে পাড়ি দিচ্ছেন। ঘরে ফিরে অনেককেই সগর্বে বলতে শোনা গিয়েছে, ‘আমাদের কি কিছু হয়েছে যে ঘর-বন্দি থাকব!’ ঘরে ফেরা  সেই সব শ্রমিকেরা চায়ের দোকান থেকে আত্মীয়ের বাড়ি বাইক হাঁকিয়ে ঘুরছেন রীতিমতো বুক ফুলিয়ে, এমনই অঙিযোগ গ্রামবাসীদের। ডোমকলের উপ-মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক মামুন রশিদ বলেছেন, ‘‘খুব জটিল পরিস্থিতি, ডোমকলের বিভিন্ন গ্রাম থেকেই অভিযোগ পাচ্ছি— ভিন দেশ কিংবা ভিন রাজ্য থেকে ঘরে ফিরে শ্রমিকেরা গাঁ ঘুরতে বেরিয়ে পড়ছেন। আমরা পুলিশকে বলেছি বিষয়টির উপরে নজর রাখতে। আমরাও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি মানুষকে সচেতন করতে।’’ 

পড়শি জেলা নদিয়ার ছবিটাও প্রায় একইরকম। কলকাতা থেকে করিমপুরের সরকারি বাস কৃষ্ণনগরে ঢোকার মুখে সোমবারই আটকেছিল পুলিশ। যাত্রীদের নাম-ঠিকানা নথিভুক্ত করে সোজা তা নিয়ে যাওয়া হয়েছে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে। সেখানে তৈরি করা হয়েছে কোয়রান্টিন কেন্দ্র। রবিবার রাতে এমন আরও একটি করিমপুর যাওয়ার সরকারি বাস আটকে যাত্রীদের শক্তিনগরে পাঠানো হয়েছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার থেকেই বাইরের রাজ্য থেকে  ফেরা পরিযায়ী শ্রমিকদের সংখ্যা লাফিয়ে বেড়েছে নদিয়ায়। ভিন রাজ্য থেকে গত কয়েক দিনে ট্রেনে মেদিনীপুর শহরে ফিরেছেন ২৬৯ জন। তবে স্বাস্থ্য দফতর ভরসা দিয়েছে, সকলেরই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: সুজাউদ্দিন বিশ্বাস ও সুস্মিত হালদার

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন