ধর্মীয় রীতি অনুসারে জৈন সম্প্রদায়ের স্বেচ্ছামৃত্যু অর্থাৎ ‘সল্লেখনা’ বা ‘সন্থারা’ পালনকে আত্মহত্যার সঙ্গে তুলনা করে রাজস্থান হাইকোর্ট সম্প্রতি ওই প্রথাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। তার প্রতিবাদে মুর্শিদাবাদ জেলার দিগম্বর ও শ্বেতাম্বর জৈন সম্প্রদায় মিলিত ভাবে সোমবার জেলা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়। এ দিন তাঁরা তাঁদের সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে লালগোলা, জিয়াগঞ্জ ও ধুলিয়ান- সহ জেলার বিভিন্ন এলাকার জৈন সম্প্রদায়ের নারী ও পুরুষ কাশিমবাজার এলাকায় দয়ানগর জৈন মন্দিরে সমবেত হন। সেখান থেকে তাঁরা মৌন মিছিল করে বহরমপুর শহরে কেন্দ্রীয় প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট মৌসম মুখোপাধ্যায়ের কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।
মুর্শিদাবাদ জেলা জৈন সম্প্রদায়ের সভাপতি কালাচাঁদ জৈন জানান, বৃদ্ধাবস্থায় সব ইন্দ্রিয় শিথিল হয়ে যায়। ধর্মাচরনের শক্তি শরীরে থাকে না কিংবা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু আসন্ন হয়ে পড়ে। অথবা দুর্ভিক্ষ বা দুর্যোগ হলে ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি বা সাধু সন্ন্যাসীরা ধর্মাচরনের মাধ্যমে মনের ভিতরের সব বিকার, ক্রোধ, মান, মায়া, লোভ পরিত্যাগ করে খাদ্যবস্তুর পরিমাণ ক্রমে কম করে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ঈশ্বরের নাম স্মরণ করতে করতে দেহত্যাগ করেন। ২০ দিন থেকে এক মাস লেগে যায়। একেই জৈন ধর্মমতে সল্লেখনা, বা সন্থারা বলে। ওই প্রথাকে আত্মহত্যার সামিল বলে রাজস্থান হাইকোর্ট সম্প্রতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
জৈন সম্প্রদায় কিন্তু ধর্মীয় ওই প্রথাকে আত্মহত্যার সামিল বলে মানতে নারাজ। মুর্শিদাবাদ জেলা জৈন সম্প্রদায়ের যুগ্ম সম্পাদক  মনোজ জৈন ও বীরেন জৈন বলেন, ‘‘ক্রোধের বশবর্তী হয়ে বা হতাশা থেকে মানুষ আত্মঘাতী হয়। কিন্তু সল্লেখনা বা সন্থারা অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ভাবে স্থিরচিত্তে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত ধ্যানপূর্বক দেহত্যাগ করেন। সল্লেখনা বা সন্থারা এক বিষয় আর আত্মহত্যা ভিন্ন বিষয়।’’