খালের জলে ডুবে মৃত্যু হল একই গ্রামের তিন বালিকার। শুক্রবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটে থানারপাড়ার মোক্তারপুরে। গোটা গ্রাম শোকস্তব্ধ।

পুলিশ জানায়, মৃতদের নাম সোহানা খাতুন (১১), সাহিনা পারভিন খাতুন (৯) ও  সঞ্চিতা খাতুন (৭)। সকলেরই বাড়ি মোক্তারপুরে। সোহানার বাবা আখতারুল শেখের শ্যালক হলেন সঞ্চিতার বাবা হাবিবুর শেখ। অর্থাৎ সোহানার মামাতো বোন সঞ্চিতা। গাঁয়েরই মেয়ে সাহিনার বাবার নাম কাজেম মোল্লা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোহানা এ দিন তার মামা হাবিবুরের বাড়িতে এসেছিল। দুপুরে সে আর সঞ্চিতা গ্রামের আরও তিনটি মেয়ের সঙ্গে জলঙ্গি নদীর খালের পাশে হাবিবুরের জমিতে যায়। সেখানে বর্ষার ভরা খালে নেমে হাঁটু জলে তারা খেলা করছিল। হঠাৎ তাদের এক জন হঠাৎ পা হড়কে বেশি জলে তলিয়ে যায়। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আর এক জন ডোবে। তাদের ধরার চেষ্টা করে তলিয়ে যায় আর এক জন। যদিও কার পরে কে, তা স্পষ্ট নয়। 

পাঁচ বালিকার দলে ছিল মূক ও বধির সাথিয়া খাতুন। সে ছুটে গিয়ে গ্রামের লোকজনকে ইশারায় জানায়। তাঁরা এসে জলে নেমে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে একে-একে তিন জনের নিথর দেহ মেলে। নতিডাঙা ব্লক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে তাদের ‘মৃত’ ঘোষণা করা হয়। পুলিশ তিনটি দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল মালিথা জানান, পাঁচটি মেয়ে কাজেম মোল্লার বাড়ি থেকে শ’তিনেক মিটার দূরে খালের পাশের জমিতে গিয়েছিল।  সারা বছর এই খালে জল না থাকলেও বর্ষায় জলে ভরে যায়। ঢাল ধরে একটু এগোনোর পরেই যে খাড়াই সোজা নীচে নেমে গিয়েছে, তা সম্ভবত তারা বুঝতে পারেনি।

সঞ্চিতার মা বলেন, ‘‘ওরা সকাল ১০টা নাগাদ বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল। আগে কখনও ওরা খালে যায়নি। হঠাৎ দুপুর ১টা নাগাদ খবর পাই, এই ঘটনা ঘটেছে।” এক সঙ্গে তিনটি মেয়েকে হারিয়ে ভেঙে পড়েছে গোটা গ্রাম। করিমপুরের প্রাক্তন বিধায়ক, বর্তমানে কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র হাসপাতালে গিয়ে সন্তানহারাদের সান্ত্বনা দিয়েছেন।