বেশ কিছু দিন ধরেই বাসিন্দারা জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন দেখে বাড়ি-বাড়ি সমীক্ষা করা হয়। ডেঙ্গি সন্দেহে স্বাস্থ্যকর্মীরা বাসিন্দাদের একাংশের রক্ত পরীক্ষাও করাতে পাঠান। স্বাস্থ্য দফতরের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে, তাতে অন্তত ১২ জনের রক্তে অ্যালাইজা এনএস-ওয়ান পরীক্ষায় ‘পজ়িটিভ’ ফল মিলেছে। জ্বরে আক্রান্তদের ভর্তি করা হয়েছে রায়গঞ্জ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার ব্লকের উজানতোড়ের ঘটনা।

শনিবার সন্ধেয় ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের দফতরের নির্দেশে জ্বরের রোগী মাইকা হেমব্রম, সানকি মার্ডি, দীপক মণ্ডলদের রায়গঞ্জ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। ওই এলাকার ঘরে ঘরে জ্বরে আক্রান্তদের একাংশের ডেঙ্গি হয়েছে সন্দেহে বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

এ দিন উজানতোড়ে মেডিক্যাল টিম যায়। শিবির করে বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়। উপস্থিত ছিলেন ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক রাকেশ চক্রবর্তী। জ্বরে আক্রান্ত আরও চার জনকে রায়গঞ্জে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

জ্বরে আক্রান্ত ওই রোগীরা ডেঙ্গি আক্রান্ত কি না তা নিয়ে স্বাস্থ্য আধিকারিকদের কেউ স্পষ্ট করে মুখ খোলেননি। রোগীদের পরিবারের হাতেও রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট দেওয়া হয়নি। হাসপাতাল এবং জেলা স্বাস্থ্য দফতরের একটি সূত্রেই জানা গিয়েছে, ওই ১২ জন রোগীর অ্যালাইজা এনএস-ওয়ান পরীক্ষার ফল পজ়িটিভ এসেছে। তাঁদের মধ্যে তিন জন খুদেও রয়েছে। জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন উজানতোড় লাগোয়া শ্রীপুর এলাকার আশা কর্মী লক্ষ্মী রায়। তিনিও হাসপাতালে ভর্তি। তাঁর পরিবারের লোকেদের দাবি, স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে জানানো হয়েছে তাঁদের ডেঙ্গি হয়েছে।

মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রকাশ মৃধা বলেন, ‘‘প্রতিটি ব্লকে জ্বরের সমীক্ষা হচ্ছে। সেই মতো ইটাহার ব্লকের ওই এলাকায় বাসিন্দাদের একাংশ জ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের চিকিৎসার জন্য রায়গঞ্জ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।’’ তিনি জানান, স্বাস্থ্য দফতরের তরফে দেখা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকেই বিষয়টি নজরে এসেছে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের।

শনিবার রাতে উজানতোড় থেকে জ্বর নিয়ে রায়গঞ্জ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন সুকেশ মন্ডল, সোমাই মার্ডি, দীপক সূত্রধর, দীপক মন্ডল, বিকাশ মন্ডল, কাঁদনি হাঁসদা, মাইকা হেমবব্রম, সানকি মার্ডি। শিশু বিভাগে ভর্তি রয়েছে অঞ্জু মন্ডল, প্রিয়া সূত্রধর, জিতেন মূর্মু, সুজিত মন্ডল, ধরমতি মন্ডল। চিকিৎসক সময় মতো না আসায়, হাসপাতাল থেকে মশারি না দেওয়ায় সমস্যা হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন রোগীর পরিবারের একাংশ।

দীপক মন্ডল নিজে এবং তা ছেলে সুজিত দু’জনেই হাসপাতালে ভর্তি। সুকেশবাবুর স্ত্রী শিখাদেবী বলেন, ‘‘গত কাল রক্তের রিপোর্ট এসেছে বলে স্বাস্থ্য কর্মীরাই বাড়িতে এসে হাসপাতালে ভর্তি হতে বলেন। তাঁরাই জানিয়েছেন ডেঙ্গি হয়েছে।’’ ডেঙ্গি সাধারণত শহরের রোগ বলেই ধারণা করা হত। কিন্তু গত বছর এবং এ বছর প্রত্যন্ত এলাকার জ্বরে আক্রান্তদের অনেকেরই ডেঙ্গি বলে সন্দেহ চিকিৎসকদের। রায়গঞ্জ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে সুপার গৌতম মন্ডল জানান, জ্বর নিয়ে যাদের ভর্তি করানো হয়েছে তাঁদের চিকিৎসার সমস্ত রকম ব্যবস্থাই নেওয়া হয়েছে।