• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

হাত ধোয়া আর গলা ভেজানো, বাংলায় দু’কাজই

Sanitizers
করোনা বড় বালাই, হাত ধোয়া হচ্ছে বাংলা মদে। নিজস্ব চিত্র

করোনা আতঙ্কের মধ্যে জেলায় স্যানিটাইজ়ারের অভাব দেখা দিয়েছে। অভাব মেটাতে বাড়িতে ইথাইল অ্যালকোহলের সঙ্গে অল্প পরিমাণ গ্লিসারিন ও গোলাপ জল মিশিয়ে হ্যান্ড স্যানিটাইজ়ার তৈরি করা যায়— পরামর্শ দিয়েছিলেন জেলার এক স্বাস্থ্যকর্তা। ব্যস, এই খবরে বেড়ে গিয়েছে দেশি বাংলা মদ কেনার হিড়িক! তবে তা শুধু হাত ধোয়াতেই থেমে থাকছে না, কেউ কেউ গলাতেও ঢেলে নিচ্ছেন কয়েক ঢোঁক। 

শহরের চকভবানী এলাকা এক বাসিন্দা জানান, মাঝে মধ্যে বাংলা খাওয়া তার অভ্যেস রয়েছে। কিন্তু বাড়িতে গন্ধ পেলেই বিপদ বাড়ে। পরিবার অশান্তি জুড়ে দেয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় দু’বোতল হাতে নিয়ে বেশ আমুদে গলায় তিনি বলেন, ‘‘একেবারে কিনে নিয়ে বাড়ি ফিরছি। আগেই বলে রেখেছি গিন্নিকে, স্বাস্থ্য দফতরের বিধিতে অ্যালকোহলের কথা বলা হয়েছে। তিনি তাই আর বিশেষ আপত্তি করেননি।’’ রাতে যে এতে হাত ধোয়ার পাশাপাশি গলায়ও যে ঢেলে নিয়েছেন, সেটাও শনিবার সকালে জানিয়ে দিলেন এক গাল হাসি সমেত। 

বস্তুত, হ্যান্ড স্যানিটাইজ়ারের ফোনে জেরবার হয়ে উঠেছে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। ফোন বাজছে মুহুর্মুহু। তুলতেই আব্দার, একটা হ্যান্ড স্যানিটাইজ়ারের ব্যবস্থা করে দিন, প্লিজ! জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুকুমার দে-কে এর জবাবে বারবার বলতে হচ্ছে, কোনও স্যানিটাইজ়ার মজুত নেই। তিনিই শেষে বাড়িতে বসে স্যানিটাইজ়ার তৈরির উপায় বাতলেছেন। জানিয়েছেন, ৭০ মিলিলিটার ইথাইল অ্যালকোহল, ১০ মিলিলিটার গ্লিসারিন ও ২০ মিলিলিটার গোলাপ জল কিংবা সাধারণ জল মিশিয়ে এক বোতল স্যানিটাইজার তৈরি করা যায়। 

এই ‘হোম মেড’ স্যানিটাইজ়ার তৈরির কথা ছড়িয়ে পড়তেই বিপত্তি। অনেকেই বলতে শুরু করেন, বাংলা মদে ইথাইল অ্যালকোহলের পরিমাণ বেশি থাকে। সুতরাং তা হাত ধোয়ার স্যানিজাইজার হিসেবে অনায়াসে ব্যবহার করা যায়। এই অপব্যাখ্যার ফল? শহরের একাধিক সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত দেশি ও বিলিতি মদ বিক্রির দোকানের মালিক জানান, গত ক’দিনে বাংলা মদ বিক্রি প্রচুর বেড়ে গিয়েছে। এক বিক্রেতা মুচকি হেসে বলেন, ‘‘শরীরের বাইরে ও ভিতরে স্যানিটাইজ়েশনের পাকা ব্যবস্থা হয়ে যাচ্ছে কিন্তু!’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন