ভুটান সীমান্ত লাগোয়া জয়গাঁতে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা দু’শো ছাড়াল। রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের আধিকারিকদের একাংশ মনে করছেন, এর জন্য দায়ী ভুটানই। ফুন্টসেলিংয়ে ডেঙ্গি রদের কাজ খুব ভাল ভাবে হচ্ছে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে স্বাস্থ্যকর্তাদের একাংশের। সম্প্রতি কলকাতা থেকে স্বাস্থ্য ভবনের একটি প্রতিনিধি দল আলিপুরদুয়ারে গিয়েছিল। পরিস্থিতির নিরিখে প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা কত, তা স্বাস্থ্য দফতরকে জানাতে বলা হয়েছে।
জয়গাঁতে ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণের পথ খুঁজে বের করতে মঙ্গলবার কালচিনিতে ফের এক বার ব্লক স্বাস্থ্য কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন জেলার স্বাস্থ্য কর্তারা। ওই বৈঠকে কিছু নতুন পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা।
ভুটান সীমান্তের ওপারে অবস্থিত ফুন্টসিলিং-এ এ বছর ডেঙ্গি কার্যত মহামারির আকার নিয়েছে। আর সেখান থেকেই জয়গাঁতেও ব্যাপক হারে ডেঙ্গি ছড়িয়ে পড়ে বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় ডেঙ্গি মোকাবিলায় জয়গাঁতে মশা নিধনে স্প্রে-র পাশাপাশি বাড়ি বাড়ি সার্ভের কাজ শুরু করে জেলা স্বাস্থ্য দফতর। কিন্তু ভুটানে ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে না এলে জয়গাঁতেও যে তা সম্ভব নয়, ভেক্টর কন্ট্রোলের কাজে নামার পরই তা বুঝতে পারেন জেলার স্বাস্থ্য কর্তারা। এই পরিস্থিতি দিন কয়েক আগে ভুটানের চুখা জেলার স্বাস্থ্য কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন আলিপুরদুয়ার জেলার স্বাস্থ্য কর্তারা। ওই বৈঠকেই ঠিক হয়, এবার থেকে ডেঙ্গি মোকাবিলায় যাবতীয় কর্মসূচি সীমান্তের দুপাশে একই সঙ্গে একই সময় নেওয়া হবে।
জেলা স্বাস্থ্য দফতর সূত্রের খবর, তারপরও জয়গাঁতে ডেঙ্গিতে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বেড়েই চলছে। খোদ স্বাস্থ্য দফতরের হিসেব অনুযায়ী, এ বছর গোটা জেলায় এখনও পর্যন্ত প্রায় আড়াইশো মানুষ ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। যার মধ্যে শুধু জয়গাঁতেই আক্রান্তের সংখ্যা এই মুহুর্তে দু’শো ছাড়িয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় আগামী শনিবার জয়গাঁতে জমা জল ফেলে দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হবে। ফুন্টসিলিং-এ ওই দিন একই কর্মসূচি নেওয়ার জন্য চুখার স্বাস্থ্যকর্তাদের সে আর্জি জানানোর কথা ভাবা হচ্ছে।