• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

লুঙ্গি ধরে টান দিল বাঁয়া গণেশ

elephant
প্রতীকী ছবি।

গভীর রাতে নিজের ঘরে ঘুমোচ্ছিলেন ধূপগুড়ির মরাঘাট জঙ্গল লাগোয়া দক্ষিণ শালবাড়ি গ্রামের দীপক রায়। আচমকা মড়মড় করে জানলা ভেঙে পড়ার আওয়াজ পান। তার পরে দেখেন, লুঙ্গি ধরে কেউ টান দিচ্ছে। তাকিয়ে দেখেই বুক ছ্যাঁৎ করে ওঠে। হাতির শুঁড়ে তাঁর লুঙ্গির কোণ। কোনও মতে লাফিয়ে লুঙ্গি টেনে বেরিয়ে ঘর থেকে বেরিয়ে ছুট লাগান দীপক। দেখতে পান, তাঁর ঘরের জানলা ভাঙা। তার সামনে দাঁড়িয়ে ঘরে শুঁড় ঢুকিয়ে রেখেছে বিরাট একটা হাতি।

হাতিটি চেনাই। বেশ কিছু দিন ধরেই ধূপগুড়ির মরাঘাট জঙ্গল লাগোয়া দক্ষিণ শালবাড়ি গ্রামে  দেখা যাচ্ছে বাঁয়া গণেশ নামে এই হাতিটিকে। খাবারের খোঁজে সে প্রায়ই এই এলাকায় হানা দেয়।

দীপকবাবু এ দিন পালানোর সময়ে পড়ে গিয়ে পায়ে চোটও পান। তবে আঘাত গুরুতর নয় বলে তিনিই জানিয়েছেন। দীপকবাবু বলেন, ‘‘গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলাম। মড়মড় শব্দে জানলা ভেঙে ফেলে হাতিটি। কিছু বোঝার আগেই শুঁড় বাড়িয়ে আমার লুঙ্গি ধরে টানাটানি করতে থাকে। তা ফস্কে যেতেই ছুটে পালাই। সে সময়ে পড়ে গিয়ে চোট পেয়েছি। তেমন লাগেনি।’’

বন দফতর জানিয়েছে, ‘বাঁয়া গণেশ’ নামে পরিচিত হাতিটি মরাঘাটের আশপাশের বনাঞ্চলেই ঘোরাফেরা করে। বাঁ দিকের দাঁত ভাঙা থাকায় সেটিকে বাঁয়া গণেশ বলা হয় বলে বন দফতরের দাবি। ওই রাতে দাঁতালটি গ্রামের ৬টি বাড়ি ভেঙে লন্ডভন্ড করে। ঘরে মজুত চাল, ডাল খেয়ে আসবাব পত্র লন্ডভন্ড করে। বাসিন্দারা আগুন জ্বালিয়ে চিৎকার শুরু করলে শালবাড়ি গ্রাম ছেড়ে পাশের গ্রামে গিয়ে ১টি বাড়ি ভাঙচুর করে। বাসিন্দাদের একাংশ জানান, কোনও কোনও বাড়িতে হাঁড়িয়া তৈরি হয়। হাঁড়িয়ার টানেও হাতি আসতে পারে।

এত দিন ধুমচি, খয়েরবাড়ি জঙ্গল এলাকার মাদারিহাট, ফালাকাটার গ্রামগুলিতে অত্যাচার চালিয়েছে বাঁয়া গণেশ। সেখান থেকে বৃহস্পতিবার সে চলে যায় মরাঘাট জঙ্গল লাগোয়া দক্ষিণ শালাবড়ি ও চায়নাডিপা গ্রামে। বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাতে বন দফতরে ফোন করলে কেউ যাননি। বন্যপ্রাণ কমিটির সাম্মানিক সদস্যা সীমা চৌধুরী জানান, “রাতে বনকর্মীরা অন্য দিকে হাতি তাড়ানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তবে ক্ষতিগ্রস্তরা আবেদন করলে সরকারি ভাবে ক্ষতিপূরণ পাবে।”

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন