তিন দিনের মাটি উৎসবের সূচনা হল মালদহ, রায়গঞ্জ এবং বালুরঘাটে। শুক্রবার বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুগলির তারকেশ্বরে এক অনুষ্ঠান থেকে মাটি উৎসবের উদ্বোধন করেন। এ দিন ওই উৎসব থেকে কৃষি দফতর এবং উদ্যানপালন দফতর প্রতিটি জেলার দু’জন কৃতী কৃষককে পুরস্কার দেয়। পুরস্কারের অর্থমূল্য হিসেবে ২৫ হাজার টাকার চেক ও মুখ্যমন্ত্রীর সই করা শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন চাষে সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবেই ওই সম্মান। 

বালুরঘাটের ফ্রেন্ড্স ইউনিয়নের মাঠে আয়োজিত হয় উৎসবের। রায়গঞ্জের উদয়পুরের কিষান মান্ডিতে এবং মালদহে ইংরেজবাজার শহরে হিন্দি হাইস্কুল সংলগ্ন মাঠে এ দিন শুরু হল মাটি উৎসব। কাল, রবিবার পর্যন্ত উৎসব চলবে। উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার কথা মাথায় রেখে ওই উৎসবে মাইক ব্যবহার করা হচ্ছে না। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও তাই বাতিল হয়েছে।

রায়গঞ্জে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী গোলাম রব্বানি ছাড়াও অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন জেলাশাসক অরবিন্দকুমার মিনা, জেলা পরিষদের তৃণমূলের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ মোশারফ হোসেন, রায়গঞ্জ পুরসভার পুরপ্রধান সন্দীপ বিশ্বাস-সহ প্রশাসনিক আধিকারিকদের অনেকেই। জেলা উপ কৃষি অধিকর্তা মীর ফারহাদ হোসেন জানিয়েছেন, উৎসবে জেলার ন’টি ব্লকের কৃষকদের একাধিক কর্মশালার মাধ্যমে বিভিন্ন শস্য চাষ নিয়ে সচেতন করা হচ্ছে। মালদহে উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডল এবং জেলাশাসক কৌশিক ভট্টাচার্য। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা উপকৃষি অধিকর্তা জ্যোতির্ময় বিশ্বাস জানান, মেলায় কৃষকদের মাটির উর্বরতা ও মাটিকে শস্যচাষের উপযোগী করে তোলার বিষয়ে সচেতন করতে নানা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। 

মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি বলেন, ‘‘এ দিন থেকে শুরু হল তিনদিনের মাটি উৎসব। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকরা যাতে আরও ভাল ভাবে ধান, গম, ভুট্টা, আম এবং নানা আনাজ চাষ করতে পারেন, তাতে উৎসাহ দিতেই এই উৎসব।’’