নিজেদের মধ্যে বিরোধ ভুলে একসঙ্গে কাজ করে লোকসভা ভোট উতরে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন গৌতম দেব। সোমবার সকাল থেকে তিন দফায় রাত আটটা পর্যন্ত দলীয় কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। সেখানে মহানন্দার একদিকের সব ওয়ার্ড ও নকশালবাড়ির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জমি কারবার, তোলা আদায় নিয়ে প্রায়শই শিলিগুড়ির তৃণমূল নেতাদের নিজেদের মধ্যে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের ঘটনা ঘটেছে। সেই নিয়ে নিজের ক্ষোভ জানিয়েছেন গৌতম। দল সূত্রে খবর, সভায় তিনি জানিয়েছেন, তৃণমূলে একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের বহর বাড়ছে। অথচ, কোনওমতে শিলিগুড়ি তথা দার্জিলিং জেলায় ভোটে জিততে পারছে না তৃণমূল। এ দিনের সভায় মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ‘‘জমি মাফিয়াদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে চললে পস্তাতে হবে। কাউকে বাঁচানোর প্রশ্ন নেই। সরকারি সম্পত্তি দখল, ভুয়ো নথি তৈরি করে বিক্রির অভিযোগ উঠলে পুলিশ-প্রশাসন কড়া পদক্ষেপ করবে। এটা মাথায় রেখেই সকলকে চলতে হবে।’’

এ দিন সভায় গৌতম জানিয়েছেন, কারও কোনও অভিযোগ থাকলে তা দলকে আগে জানাতে হবে। এরকম না হলে গোলমাল ক্রমশই বাড়তে থাকবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তৃণমূল জেলা সভাপতি। এই প্রসঙ্গে গৌতমের মন্তব্য, ‘‘কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা নিয়ে প্রকাশ্যে চেঁচামেচি জোড়ার আগে দলে জানালে সমস্যা কোথায়! তাই সবাইকে সেটা বলেছি। দল ব্যবস্থা না নিলে পুলিশ-প্রশাসন আছে। অভিযোগকারী তখন যেখানে খুশি জানাতে পারেন।’’

দলীয় সূত্রের খবর, এ দিন মহানন্দার একদিকে থাকা ৪৬, ২ ও ৪৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতাদের কয়েকজনকে ডাকা হয়। যাঁদের মধ্যে কয়েকজন একে অপরের বিরোধী গোষ্ঠী বলে দলেরই একাংশের দাবি। চম্পাসারি, প্রধাননগর এলাকার তৃণমূল নেতা দিলীপ বর্মণের অভিযোগ, ওই জায়গায় জমি মাফিয়াদের মদত দিচ্ছে দলেরই একাংশ। এমনকী, নিয়ন্ত্রিত বাজারের দোকান বেআইনি হস্তান্তরে তোলাবাজির অভিযোগও রয়েছে। তিনি জানান, দলের কেউ অপকর্ম করছে দেখলে তিনি প্রতিবাদ করবেন। দলের পক্ষ থেকে সহযোগিতা না পেলে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়ার কথাও ভাবতে বাধ্য হবেন বলে জানান তিনি। পরে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ বলেন, ‘‘আমি সব সময়ই দুর্নীতির প্রতিবাদ করি। করবও।’’ এ দিনের বৈঠকে আর এক নেতা সঞ্জয় পাঠক এক ছাত্র নেতার বিরুদ্ধে কেন বারবার অভিযোগ উঠছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

দলে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে কোন্দল যে কমছে না তা একান্তে মানছেন তৃণমূলের শিলিগুড়ির অনেক নেতাই। দলীয় সূত্রের দাবি, সে কারণেই গৌতম বৈঠকে বারবার মনে করান যে শিলিগুড়ি, ফাঁসিদেওয়া, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি বিধানসভার আসন তৃণমূল পায়নি। এমনকী শিলিগুড়ি পুরসভা, মহকুমা পরিষদও হারাতে হয়েছে বামেদের কাছে। গৌতম দেব বলেন, ‘‘কেন আমরা কিছুতেই দার্জিলিং জেলায় ভাল ফল করতে পারছি না সেটা ভাবুন। ভাল ফল করতে বিরোধ ভুলে জোট বাঁধুন।’’