পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে উত্তর দিনাজপুর জেলা পুলিশ হেমতাবাদের সিপিএম বিধায়ক দেবেন রায়ের নিরাপত্তারক্ষী তুলে নিয়েছে বলে অভিযোগ। নদিয়ার কৃষ্ণগঞ্জের তৃণমূল বিধায়কের খুনের ঘটনার পর থেকে কিছুটা আতঙ্কে রয়েছেন বলেই দাবি ওই বিধায়কের। তাঁর অভিযোগ, গত ছ’মাস ধরে জেলা পুলিশের কর্তাদের কাছে একাধিকবার আবেদন করেও তিনি নিরাপত্তারক্ষী পাননি। বিরোধী বিধায়ক হওয়াতেই তাঁর নিরাপত্তারক্ষী তোলা হয়েছে বলে বিধায়কের অভিযোগ।

জেলা পুলিশ সুপার সুমিত কুমারের বক্তব্য, বিধায়কের নিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনও তথ্য, আবেদন ও অভিযোগ তাঁর জানা নেই। তাঁর নিরাপত্তারক্ষীর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে গোয়েন্দা রিপোর্ট খতিয়ে দেখে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হেমতাবাদ কেন্দ্র থেকে সিপিএমের টিকিটে প্রথমবার জয়ী হয়ে বিধায়ক নির্বাচিত হন দেবেন। তাঁর অভিযোগ, গত বছর পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে জেলা পুলিশ আচমকা তাঁর নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেয়। গত ছয়মাস ধরে তিনি একাধিকবার রায়গঞ্জের কর্ণজোড়ায় জেলা পুলিশের দফতরে গিয়ে জেলা পুলিশের কর্তাদের কাছে নিরাপত্তারক্ষী দেওয়ার আবেদন করেছেন। কিন্তু এখনও পর্যন্ত তাঁকে নিরাপত্তারক্ষী দেওয়া হয়নি। তাঁর বক্তব্য, ‘‘বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর একাধিকবার বিভিন্ন মহল থেকে আসা শাসকদলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছি। বিরোধী দলের বিধায়ক হওয়ার কারণেই আমার নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়া হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।’’

জেলা পুলিশ জানিয়েছে, কোনও বিধায়ককে নিরাপত্তারক্ষী দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। বিধায়কদের উপর হামলা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার গোয়েন্দা রিপোর্ট খতিয়ে দেখেই নিরাপত্তারক্ষী দেওয়া হয়। দেবেনবাবুর নিরাপত্তারক্ষীর প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে গোয়েন্দা রিপোর্ট থাকলে দীর্ঘদিন আগেই তাঁকে নিরাপত্তারক্ষী দেওয়া হত।