দু’মাস স্কুল ছুটি দেওয়ায় পড়ুয়াদের পড়াশোনা লাটে উঠছে বলে অভিযোগ। অবিলম্বে স্কুল খোলার দাবিতে তাই  অভিভাবকরাই আন্দোলনে নামলেন। মঙ্গলবার স্কুল খোলার নির্ধারিত সময়ে গেটের সামনে জড়ো হন তাঁরা। খড়িবাড়ি ব্লকের বুড়াগঞ্জে কালকূট সিংহ হাই স্কুলের ঘটনা। তবে স্কুল খোলার জন্য কেউ এ দিন আসেননি। আসেননি কোনও শিক্ষকও। বন্ধ গেটের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকেরা। তাদের অভিযোগ, ফণীর পরিস্থিতির জন্য এক দু’দিন ছুটি দিলেই হত। এখন এখানে খুব বেশই গরমও নেই। অথচ ফণী এবং দহনের অজুহাতে দুই মাস স্কুল বন্ধ দেওয়ায় ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ক্ষতি হবে। সিলেবাসের পড়া স্কুলে সব পড়ানো সম্ভব হবে না। তাই অবিলম্বে স্কুল খোলার দাবিতে সরব হন তাঁরা। স্কুল খোলা না-হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকিও দিয়েছেন। 

এ দিন শিলিগুড়িতে স্কুল পরিদর্শক (মাধ্যমিক) দফতরের সামনে এবং পরে হাতিমোড়ে স্কুল খোলার দাবিতে বিক্ষোভ দেখান নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সদস্যরা। সংগঠনের সভাপতি তমাল চন্দের অভিযোগ, ‘‘যত দিন যাচ্ছে এখন মনে হচ্ছে পরিকল্পনা করেই এ ভাবে স্কুল বন্ধ করা হয়েছে।’’ তাদের দাবি, ‘‘অবিলম্বে স্কুল খুলতে হবে। স্কুল এ ভাবে বন্ধ রাখা যাবে না।’’ 

মহেন্দ্র মেজর, বিজয় কুমার সিংহ, দীপ নারায়ণ রায়, অশোক মাহাতোর মতো অন্তত জনা তিরিশ অভিভাবক এদিন কালকূট সিংহ স্কুলের গেটের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ দেখান। তাঁরা বলেন, ‘‘এমনিতেই স্কুলে ঠিক মতো পড়াশোনা হয় না। তার উপর এ ভাবে বন্ধ থাকলে পড়াশোনা নষ্ট হবে। ’’

শিলিগুড়ি হিন্দি হাই স্কুল সরকারি নির্দেশ না-মেনে এদিনও খোলাই ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষ বন্ধের কোনও নোটিসও দেয়নি। তাঁরা এখন ছুটি দিতে চান না বলেও জানিয়েছেন। অন্য দিকে খড়িবাড়ি হাই স্কুলে পঞ্চম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির প্রথম পর্যায়ের পরীক্ষা চলছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানান, স্কুল ছুটি ঘোষণার আগের দিন থেকেই পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। আচমকা স্কুল বন্ধ করলে পরীক্ষা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই বুধবার পর্যন্ত পরীক্ষা নিয়ে স্কুল ছুটি দেওয়া হবে।