ভিতরে অন্তঃসত্ত্বা মহিলা আর তাঁর আয়া। দোতলা থেকে তিনতলায় ওঠার মাঝে হঠাৎ আটকে গেল লিফট‌্। তারপরে যখন তাঁদের বের করা হল ততক্ষণে একঘণ্টা পেরিয়েছে। রোগীর শ্বাসকষ্টও শুরু হয়ে গিয়েছিল বলে অভিযোগ। শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে মঙ্গলবার সকাল সাতটা নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনার পরেই লিফটের দায়িত্বে থাকা অস্থায়ী কর্মীকে বরখাস্ত করেছে পূর্ত দফতর। ওই দফতরের বিদ্যুৎ বিভাগ হাসপাতালের লিফটের দায়িত্বে রয়েছে। অনেক পুরনো লিফটের জন্যই এমন বিভ্রাট বলে জেলা হাসপাতালের আধিকারিকরা মনে করছেন।

লিফটে আটকে পড়েছিলেন রিকিয়া চন্দ। তাঁর মা শিবানীদেবী বলেন, ‘‘চারতলার প্রসূতি বিভাগ থেকে একতলার লেবার রুমে মেয়েকে নিয়ে আসার সময় ওই ঘটনা ঘটে।’’ শিলিগুড়ির ভক্তিনগর এলাকার বাসিন্দা দেবাশিস চন্দ তাঁর স্ত্রী রিকিয়াদেবীকে সোমবার রাত আড়াইটে নাগাদ জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। দেবাশিসবাবু বলেন, ‘‘তখনই চিকিৎসকরা ওকে ভর্তি করে নেন। এরপরে সকালে হাসপাতাল থেকে বাড়ি এসে জানতে পারি আমার স্ত্রী লিফটে আটকে গিয়েছেন।’’ সোমবার রাতে মেডিসিন বিভাগের কাছে লিফটে কোনও কর্মী ছিল না বলে অভিযোগ বাশিসবাবুর। রিকিয়াদেবীর বাবা বিদ্যুৎ ঘোষও ঘটনার একটু আগেই হাসপাতালে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘‘গিয়েই হাসপাতালের ভিতর থেকে চিৎকারের আওয়াজ পাই। শুনি লিফটে কারা আটকে পড়েছে। গিয়ে দেখি আমার মেয়ে।’’

হাসপাতালের সুপার অমিতাভ মণ্ডল বলেন, ‘‘লিফটে একটা সমস্যা হয়েছিল। তবে এই ঘটনা নিয়ে কোনও অভিযোগ পাইনি। নতুন লিফট চালুর ব্যাপারে ইতিমধ্যেই রোগী কল্যাণ সমিতির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।’’ 

শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে দু’টি লিফট রয়েছে। একটি মেডিসিন বিভাগের কাছে অন্যটি হাসপাতালের পুরনো ভবনে সিটি স্ক্যান বিভাগের কাছে। বছর দশেক আগে সেগুলি বসানো হয়। অভিযোগ, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে লিফটগুলি মাঝেমধ্যেই অকেজো হয়ে পড়ে। দু’টি লিফটে দু’জন করে কর্মীর তিনটে শিফটে থাকার কথা। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই তাঁদের দেখা পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ। পূর্ত দফতরের বিদ্যুৎ বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘ পুরনো লিফট্ ঠিক করার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’’