চমচমের জিআই স্বীকৃতি চেয়ে প্রস্তাব জমা পড়ল জলপাইগুড়ি জেলাশাসকের দফতরে। বেলাকোবার নাগরিক সমিতির তরফে ওই আবেদন করা হচ্ছে।

বেলাকোবার চমচম বলে পরিচিত মিষ্টির আবিষ্কর্তা হিসেবে আবেদন করবেন এলাকার বর্তমান মিষ্টি ব্যবসায়ীরা। রসগোল্লার জিআই স্বীকৃতির পরেই তোড়জোড় শুরু হয় বেলাকোবায়। কোথাও যাতে কোনও বির্তকের অবকাশ না থাকে সে কারণে ধাপে ধাপে পদক্ষেপ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের তরফে চমচমের স্বীকৃতির বিষয়ে প্রস্তাব-আবেদনের প্রাপ্তি স্বীকার করেছে জেলা প্রশাসন। সূত্রের খবর জেলাশাসক রচনা ভগৎ রাজ্য সরকারকে চিঠি পাঠিয়েছেন।

বেলাকোবার চমচম মূলত পোড়াবাড়ির ঘরানার। ওপার বাংলা তথা অধুনা বাংলাদেশের টাঙাইলে কড়া রসের পাকের চমচম বিখ্যাত। দেশভাগের সময়ে টাঙ্গাইলের চমচমের দোকানের দুই কারিগর বেলাকোবায় চলে আসেন। বেলাকোবাতে শুরু হয় চমচম তৈরি। পরবর্তীতে সেটাই বেলাকোবার চমচম বলে পরিচিতি পায়। সাধারণ চমচমের সঙ্গে আকার-রসের পাক এবং উপাদনে পার্থক্য রয়েছে ওই মিষ্টির।

চমচম ব্যবসায়ী উদয় সরকারের কথায়, ‘‘টাঙাইল থেকে চলে আসার পরে আমার বাবা যে চমচম বানান তা একেবারে মৌলিক। তাতে ক্ষীর মেশানো শুরু হয়। চমচমের ভিতরে রস থাকে চাকে চাকে। অনেকটা মৌমাছির বাসার মতো। পাকও বেশ ঘন। এই চমচমের ঢঙে এখন অনেক জায়গায় তৈরির চেষ্টা চলছে। তবে এর উৎস বেলাকোবাতেই।’’

চমচমের জিআই স্বীকৃতির পৃষ্ঠপোষকতা করতে ইতিমধ্যেই রাজি হয়েছেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী গৌতম দেব। রাজগঞ্জের বিধায়ক খগেশ্বর রায় চমচম নিয়ে বিধানসভাতেও সরব হওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। খগেশ্বরবাবু বলেন, ‘‘বেলাকোবায় চমচম একটা শিল্প। তিনটে পুরনো দোকান তো বটেই আরও অনেক দোকান তৈরি হয়েছে এখানে।’’ জিআই স্বীকৃতি মিললে চমচম শিল্পে বিনিয়োগের আশাও রয়েছে বলে তাঁর মত।

রসগোল্লার স্বীকৃতি মেলার পরে বেলাকোবার চমচম নিয়ে উদ্যোগী হয় বেশি কিছু সংস্থা। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম শিলিগুড়ি লিগাল এইড ফোরাম। আবেদন করা তথ্য সংগ্রহ, শুনানি প্রভৃতি ক্ষেত্রে আইনি সহায়তা করা হবে বলে ফোরামের তরফে জানানো হয়েছিল। ফোরামের সম্পাদক অমিত সরকার বলেন, ‘‘গত সপ্তাহে বেলাকোবাতে নাগরিক কনভেনশন হয়েছে। সেখান থেকেই প্রস্তাব করে জেলাশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। আমরা আশাবাদী।’’