২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের থেকে এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোটের হার বাড়লেও বালুরঘাট আসনে হেরেছেন তৃণমূল প্রার্থী। নজিরবিহীন ভাবে গতবারের তৃতীয় স্থানে থাকা বিজেপি প্রায় তিন লক্ষ ভোট বাড়িয়ে এই আসনে জিতেছে। তৃণমূলের দাবি, বামেরা নিজেদের ভোট ধরে না রাখতে পারায় লাভ হয়েছে বিজেপির।

২০১৪ সালে তৃণমূল প্রার্থী অর্পিতা ঘোষ পেয়েছিলেন চার লক্ষ ৯৬৪১টি ভোট। প্রায় ৩৮.৫৩ শতাংশ ভোট নিয়ে আরএসপি প্রার্থীকে পরাজিত করে প্রথমবার সাংসদ হয়েছিলেন অর্পিতা। সেবার আরএসপি প্রার্থী বিমল সরকার পেয়েছিলেন তিন লক্ষ ২৬৭৭টি। প্রায় ২৮.৪৭ শতাংশ ভোট। বিজেপি পেয়েছিল দুই লক্ষ ২৩০১৪ ভোট। ২০.৯৮ শতাংশ ভোট পেয়ে বিজেপি হয়েছিল তৃতীয়। কংগ্রেস প্রার্থী ৮০,৭১৫টি ভোট , অর্থাৎ ৭.৫৯ শতাংশ  পেয়েছিল। 

এবারের লোকসভা নির্বাচনে  বিজেপি পাঁচ লক্ষ ৩৯ হাজার ৩১৭টি ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছে। তাদের সংগ্রহ ৪৫.০২ শতাংশ ভোট। তৃণমূল পাঁচ লক্ষ ৬০২৪টি ভোট পেয়েছে। অর্থাৎ শতাংশের হিসেবে ৪২.২৪। 

উল্লেখযোগ্য ভাবে, আরএসপি ৭২ হাজার ৯৯০টি ভোটে আটকে গিয়েছে, অর্থাৎ ৬.০৯ শতাংশ। কংগ্রেস প্রার্থী মাত্র ৩৬ হাজার ৭৮৩ টি ভোট পেয়েছেন। শতাংশের হিসেবে ৩.০৭। ফলাফলেই পরিষ্কার বাম ও কংগ্রেসের ভোটে থাবা বসিয়েছে বিজেপি ও তৃণমূল। পর্যবেক্ষকদের মতে, আরএসপির তিন লক্ষ ভোটের মধ্যে দুই লক্ষ ভোটই গিয়েছে বিজেপির ঝুলিতে। তারসঙ্গে রয়েছে নতুন ভোটার এবং ফ্লাইং ভোটার। এই দুই অংশের অধিকাংশ ভোটই বিজেপিতে যাওয়ায় বাজিমাত করেছে বিজেপি। 

তৃণমূলের নেতা তথা উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী বাচ্চু হাঁসদা বলেন, ‘‘বামেদের সম্পূর্ণ ভোট পড়েছে বিজেপিতে। যদি বামেরা নিজেদের ভোটের অর্ধেকও ধরে রাখত তাহলে আমরা অনায়াসে জিতে যেতাম।’’ বাম নেতাদের কথায়, পঞ্চায়েতে রিগিং, বামেদের প্রার্থী দিতে না দেওয়া, বাম বিধায়কদের দল ভাঙিয়ে নিয়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে বামেদের নিয়ে কোনও আশার আলো ছিল না। বামেদের তুলনায় বিজেপি শক্তিশালী ভেবে ভোটাররা তাই বিজেপিকেই ভোট দিয়েছে। আরএসপি নেতা বিমল সরকার বলেন, ‘‘তৃণমূল  যদি বামেদের লাঠির উপরেই ভর করে জেতার স্বপ্ন দেখত তাহলে বামেদের ঘর ভাঙিয়ে, বামেদের উপরে অত্যাচার কেন করল? নিজেদের ব্যর্থতার দায় এখন আমাদের উপরে চাপানো হচ্ছে।’’ 

বিজেপির জেলা সভাপতি শুভেন্দু সরকারও বলেন, ‘‘তৃণমূলের লাগামছাড়া সন্ত্রাস, রিগিংয়ের প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ বিজেপিকে বেছে নিয়েছেন। কারণ, মানুষ বুঝেছেন নরেন্দ্র মোদীর সরকারই পারে সন্ত্রাস রুখে দিয়ে উন্নয়নের মাধ্যমে দেশ গঠন করতে। তাই বামেদেরও ভোট আমরা পেয়েছি।’’