একটি শহর দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে অবহেলিত ভেবে এসেছে। নতুন জেলা ঘোষণার পরেও তার ভাগ্যে না জুটেছে মহকুমা তকমা, না হতে পেরেছে পুরসভা। অন্যটি অসম সীমানা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে, রাজ্যের এক প্রান্তিক শহর। উত্তরবঙ্গের এই দুই জনপদ ফালাকাটা ও তুফানগঞ্জকে একসঙ্গে সকলের চোখের সামনে নিয়ে এল দু’টি মেয়ে। ফালাকাটার শ্রেয়সী পাল ও তুফানগঞ্জের দেবস্মিতা সাহা। দু’জনকে নিয়েই এখন মশগুল দুই শহর। 

ফালাকাটা গার্লস হাইস্কুলের শ্রেয়সী পেয়েছে ৬৯১ নম্বর। অঙ্ক, ভূগোল, ভৌত বিজ্ঞানে সে পেয়েছে একশোয় একশো। ইতিহাস ও জীবন বিজ্ঞানে ৯৯ করে, ইংরেজিতে ৯৭ এবং বাংলায় ৯৬। বাড়ির লোক থেকে স্কুলের শিক্ষিকারা সবাই বলছিলেন, ক্লাসে প্রথম স্থানটি বরাবর পাকা ছিল তার। মাধ্যমিকে যে প্রথম দশে থাকবে, সেটা ধরেই নিয়েছিলেন তাঁরা। তবে একেবারে দ্বিতীয়! ‘‘আমাদের শহরের তো কিছুই জোটেনি। না হয়েছে পুরসভা, না মহকুমা। তার নাম, তার পুরনো ঐতিহ্যই যেন ফিরিয়ে এনেছে শ্রেয়সী,’’ বলছিলেন এক প্রতিবেশী। শ্রেয়সীর মা বলছিলেন, ‘‘বিএ পরীক্ষা দেওয়ার আগে বিয়ে হয়ে যায়। শ্বশুরবাড়িতে এসে বাংলায় এমএ পাশ করি। কিন্তু চাকরি করা হয়নি। আমি চাই, আমার মেয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াক।’’ মায়ের সেই স্বপ্ন সঙ্গে নিয়ে ডাক্তার হতে চায় শ্রেয়সী। 

দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯

মায়ের আদর দেবস্মিতাকে। নিজস্ব চিত্র

তার সঙ্গে আরও একটা জায়গায় মিল রয়েছে তুফানগঞ্জের ইলাদেবী হাইস্কুলের দেবস্মিতা সাহার। সেই স্কুলের শিক্ষিকারা বলছিলেন, দেবস্মিতাও কোনও দিন ক্লাসে দ্বিতীয় হয়নি। এ বারে সে-ও পেয়েছে ৬৯১। অঙ্কে এবং জীবন বিজ্ঞানে ১০০ পেয়েছে সে।  ইতিহাস, ভূগোলে ৯৯ করে এবং বাংলায় ও ইংরেজিতে সে পেয়েছে ৯৮ করে। ভৌতবিজ্ঞানে দেবস্মিতা পেয়েছে ৯৭। বাবা ফার্মাসিস্ট। মা তুফানগঞ্জ মহকুমা হাসপাতালে নার্সের চাকরি করেন। ছবি আঁকতে ভালবাসে দেবস্মিতা। প্রিয় চিত্রকর ভ্যান গখ। সময় পেলে তাই কার্টুনও দেখে। প্রিয় চরিত্র? এক গাল হেসে দেবস্মিতা বলে, ‘‘ডোরেমন!’’