বরাবাজারে এক তৃণমূলকর্মীর ‘অপহরণের’ অভিযোগ নিয়ে পুরুলিয়ায় বাড়ছে রাজনীতির উত্তাপ। বুধবার ওই ঘটনার উল্লেখ করে কাশিপুরে এক সভায় দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বিজেপির বিরুদ্ধে ‘রুখে দাঁড়ানো’ এবং ‘বুঝে নেওয়া’র বার্তা দিলেন তৃণমূলের রাজ্যসভা সাংসদ মানস ভুঁইয়া।

আগামী ১৯ জানুয়ারি তৃণমূলের ব্রিগেড সভার প্রস্তুতি হিসাবে এদিন কাশিপুরের সেবাব্রতী সংঘের মাঠে এক সভায় বক্তৃতা করেন মানস। বরাবাজারের তৃণমূলকর্মী সন্তোষ মাহাতোর ‘অপহরণে’র প্রসঙ্গ তুলে দলীয় কর্মীদের তিনি বলেন, ‘‘আমাদের কোনও কর্মীর গায়ে যদি হাত পড়ে, বিজেপি যদি কোথাও গন্ডগোল পাকানোর চেষ্টা করে, তবে রুখে দাঁড়াবেন। বাকিটা কী করবেন, সেটা নিজেরাই বুঝে নেবেন।’’ বিজেপি সম্পর্কে দলীয় কর্মীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে মানস বলেন, ‘‘যে লোকটি বিজেপির পতাকা নিয়ে ঘুরছেন, তাঁকে বোঝান, এই পতাকা মানুষে-মানুষে বিভেদ তৈরি করে, দাঙ্গা লাগায়।’’

পঞ্চায়েত নির্বাচনে জঙ্গলমহল-সহ পুরুলিয়ার যে এলাকাগুলিতে বিজেপি ভাল ফল করেছিল তার মধ্যে কাশীপুর অন্যতম। সম্প্রতি এখানে এক সভায় বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এবং তৃণমূল থেকে গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়া এক নেতা তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন। তাঁরা দাবি করেছিলেন, পঞ্চায়েত ভোটের নিরিখে পুরুলিয়া লোকসভা আসনে তৃণমূলের থেকে এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। ঘটনাচক্রে এই পরিস্থিতিতেই বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন বিষ্ণুপুরের তৃণমূল সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বোলপুরের সাংসদ অনুপম হাজরাও বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন চলছে রাজ্য রাজনীতিতে। দুই ঘটনায় জঙ্গলমহলে দলের প্রভাব আরও বাড়বে বলে মনে করছে বিজেপি। তৃণমূল অবশ্য সৌমিত্র এবং অনুপমকে নিয়ে আদৌ চিন্তিত নয় বলে এ দিন দাবি করেছেন মানস।